ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে দুই মাস পার হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুদ্ধটি যেমন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তেমনি দেশটির জনগণের মধ্যে এর প্রতি সমর্থনও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। শুরুতে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত অর্থনৈতিক প্রভাবের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।
যুদ্ধের খরচ ও অর্থনৈতিক চাপ
পেন্টাগনের প্রথম হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানিমূল্য দ্রুত কমবে—ট্রাম্পের এমন আশ্বাসও এখন প্রশ্নের মুখে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলীয় নেতাদের মধ্যেও এই যুদ্ধ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় সংঘাত দলটির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। জনমত জরিপগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছে না।
ট্রাম্পের অবস্থান ও বক্তব্য
সমালোচনার মুখেও ট্রাম্প যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও দ্বৈত বার্তা দিচ্ছেন—একদিকে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলছেন, অন্যদিকে কোনো চুক্তি না করাই ভালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলো যুদ্ধ থেকে দূরে থাকায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাদের সমালোচনা করেছেন। এমনকি জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
যুদ্ধের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ইরান সরকার এখনও টিকে আছে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির সম্ভাবনা কমে গেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে সামরিক হামলা শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—তিন দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই এর প্রভাব আরও গভীর হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















