মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাপানে নাফথা সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিল্প খাতের পাশাপাশি বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য প্যাকেজিং খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে সরকার জানিয়েছে, অন্তত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল পলিথিনের সরবরাহ এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
নাফথা সংকটের প্রভাব
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জাপানে পেট্রোলিয়ামজাত নাফথার প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাফথা মূলত বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক উৎপাদন। এই পরিস্থিতিতে শিল্পখাতের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষি ও খাদ্য সরবরাহে চাপ
বিশেষ করে কৃষি খাত ও খাদ্য প্যাকেজিং শিল্প এই সংকটের কারণে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য প্লাস্টিক প্যাকেজিং অপরিহার্য। নাফথা থেকে উৎপাদিত পলিথিন এই প্যাকেজিং তৈরির প্রধান উপাদান। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের আশ্বাস
এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ৩০ এপ্রিল এক সরকারি বৈঠকে জানান, পলিথিনের বর্তমান মজুদ গত বছরের চাহিদার ভিত্তিতে যথেষ্ট রয়েছে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য প্যাকেজিং বা কৃষিপণ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জোর
সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে যাতে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাপান সরকার নাফথা ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যদিও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি অনিশ্চিত, তবুও এখন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা সরকার নাকচ করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















