০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, চড়া দামে কিনতে বাধ্য রোগীরা হাওরের ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক, সরকারি গুদামে বিক্রিও বন্ধ সোনার দামে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন মোড়, ভরিতে আবারও বাড়ল ২ হাজার ১৫৮ টাকা ভারতের প্রাচীনতম প্রাসাদ পদ্মনাভপুরম, আজও টিকে আছে ১৬ শতকের রাজকীয় ঐতিহ্য শুভেন্দু কি পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? শুক্রবার বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি ফার্মগেটে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন, আতঙ্কের পর স্বাভাবিক যান চলাচল রাজশাহীতে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, অভিযোগ যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে হাম পরীক্ষার কিট শেষের পথে, ১১ মের পর বন্ধ হতে পারে নমুনা পরীক্ষা সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে হাম সংকট

ইন্দোনেশিয়ায় জ্বালানি সংকট, পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

গত কয়েক দিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা জ্বালানি সংগ্রহে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রথম সংকটের খবর প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পার্টামিনা অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানির দাম বাড়ানোর চার দিন আগে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রদেশজুড়ে প্রায় সব পেট্রল পাম্পে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যা অনেক সময় প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। সড়কের পাশে ছোট জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোও অতিরিক্ত চাহিদায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানাম এলাকার একটি দোকান টানা দুই দিন বন্ধ ছিল, কারণ তাদের মজুদ শেষ হয়ে গেছে।

দোকানটির মালিক আরদি জানান, “দুই দিন আগে ১০০ লিটার জ্বালানি এক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়, মানুষ হুড়োহুড়ি করছিল।”

Energy crisis caused by Iran war reveals a tale of two Indonesias – Asia  News Network

পেকানবারুর বাসিন্দা সুবহান সাকতি জানান, গত তিন দিন ধরে তিনি ভর্তুকিপ্রাপ্ত পার্টালাইট জ্বালানি সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের জন্য কিছুটা জ্বালানি পাওয়া গেলেও গাড়ির জন্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

“আমি শহরের বাইরে একটি পাম্পে গিয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আমার এক প্রতিবেশী মধ্যরাতের পর জ্বালানি নিতে পেরেছে,” তিনি বলেন। অনেক চালক এমন পাম্পেও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে, আশা করছেন নতুন সরবরাহ আসবে।

তীব্র গরমের মধ্যেও মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, কারণ রাস্তার পাশের বিক্রেতাদের কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে গেলে অনেক বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।

অন্য এক বাসিন্দা দেউই জুনাইতা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের খবর দেখে তিনিও লাইনে দাঁড়ান। তিনি জানান, তার বাড়ির কাছে একটি পাম্পে ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানি নিলেও লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল অস্বাভাবিক।

“মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত পার্টাম্যাক্স কিনতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে,” তিনি বলেন।

তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশের বিক্রেতারাও এখন কম পাওয়া যাচ্ছে। আর পাওয়া গেলেও প্রতি লিটার পার্টালাইট প্রায় ১৪ হাজার রুপিয়ায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দামের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

Indonesia to limit fuel sales to counter Iran war impact | Reuters

দেউই কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “রিয়াউ ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল, অথচ এখানকার মানুষ জ্বালানি পেতে হিমশিম খাচ্ছে—এটা সত্যিই অদ্ভুত।”

রিয়াউয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দপ্তরের প্রধান ইসমন দিয়োন্দো সিমাতুপাং জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্টামিনার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানির সরবরাহ নিরাপদ রয়েছে এবং মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনার আহ্বান জানান।

পার্টামিনা পাত্রা নিয়াগার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের মুখপাত্র ফাহরোগি আন্দ্রিয়ানি সুমাম্পাও জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা লাইনের মূল কারণ।

তিনি বলেন, “সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবে চাহিদা বাড়ায় আমরা প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত সরবরাহ গত শুক্রবার থেকে চালু হয়েছে এবং এতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Fuel shortages hit Indonesia's Riau, triggering long lines at gas stations  | The Star

রিয়াউ পুলিশের প্রধান হেরি হেরিয়াওয়ান জনগণকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভুয়া তথ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কেনার প্রবণতা বাড়ায়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে।”

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানির অপব্যবহার বা মজুদদারি দেখতে পান, তবে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, চড়া দামে কিনতে বাধ্য রোগীরা

ইন্দোনেশিয়ায় জ্বালানি সংকট, পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

১১:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

গত কয়েক দিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা জ্বালানি সংগ্রহে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রথম সংকটের খবর প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পার্টামিনা অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানির দাম বাড়ানোর চার দিন আগে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রদেশজুড়ে প্রায় সব পেট্রল পাম্পে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যা অনেক সময় প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। সড়কের পাশে ছোট জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোও অতিরিক্ত চাহিদায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানাম এলাকার একটি দোকান টানা দুই দিন বন্ধ ছিল, কারণ তাদের মজুদ শেষ হয়ে গেছে।

দোকানটির মালিক আরদি জানান, “দুই দিন আগে ১০০ লিটার জ্বালানি এক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়, মানুষ হুড়োহুড়ি করছিল।”

Energy crisis caused by Iran war reveals a tale of two Indonesias – Asia  News Network

পেকানবারুর বাসিন্দা সুবহান সাকতি জানান, গত তিন দিন ধরে তিনি ভর্তুকিপ্রাপ্ত পার্টালাইট জ্বালানি সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের জন্য কিছুটা জ্বালানি পাওয়া গেলেও গাড়ির জন্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

“আমি শহরের বাইরে একটি পাম্পে গিয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। আমার এক প্রতিবেশী মধ্যরাতের পর জ্বালানি নিতে পেরেছে,” তিনি বলেন। অনেক চালক এমন পাম্পেও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে, আশা করছেন নতুন সরবরাহ আসবে।

তীব্র গরমের মধ্যেও মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, কারণ রাস্তার পাশের বিক্রেতাদের কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে গেলে অনেক বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।

অন্য এক বাসিন্দা দেউই জুনাইতা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের খবর দেখে তিনিও লাইনে দাঁড়ান। তিনি জানান, তার বাড়ির কাছে একটি পাম্পে ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানি নিলেও লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল অস্বাভাবিক।

“মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত পার্টাম্যাক্স কিনতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে,” তিনি বলেন।

তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশের বিক্রেতারাও এখন কম পাওয়া যাচ্ছে। আর পাওয়া গেলেও প্রতি লিটার পার্টালাইট প্রায় ১৪ হাজার রুপিয়ায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দামের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

Indonesia to limit fuel sales to counter Iran war impact | Reuters

দেউই কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “রিয়াউ ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল, অথচ এখানকার মানুষ জ্বালানি পেতে হিমশিম খাচ্ছে—এটা সত্যিই অদ্ভুত।”

রিয়াউয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দপ্তরের প্রধান ইসমন দিয়োন্দো সিমাতুপাং জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্টামিনার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানির সরবরাহ নিরাপদ রয়েছে এবং মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনার আহ্বান জানান।

পার্টামিনা পাত্রা নিয়াগার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের মুখপাত্র ফাহরোগি আন্দ্রিয়ানি সুমাম্পাও জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা লাইনের মূল কারণ।

তিনি বলেন, “সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবে চাহিদা বাড়ায় আমরা প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত সরবরাহ গত শুক্রবার থেকে চালু হয়েছে এবং এতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Fuel shortages hit Indonesia's Riau, triggering long lines at gas stations  | The Star

রিয়াউ পুলিশের প্রধান হেরি হেরিয়াওয়ান জনগণকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভুয়া তথ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কেনার প্রবণতা বাড়ায়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে।”

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানির অপব্যবহার বা মজুদদারি দেখতে পান, তবে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।