রাজধানীর মগবাজার মোড়ে রাতে বাসায় ফেরার পথে এক সাংবাদিককে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে এবং বাধা দিলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে। ভুক্তভোগী আতাউর রহমান নতুনধারার গণমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর সিনিয়র রিপোর্টার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার হাতিরঝিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা
আতাউর রহমান জানান, তিনি পান্থপথে অফিস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক সহকর্মী মহির মারুফ। মগবাজার মোড় পার হওয়ার সময় মারুফ রিকশা খুঁজছিলেন। ঠিক তখনই একটি গাড়ি এসে থামে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি লাঠি হাতে নেমে তাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে আরও তিনজন গাড়ি থেকে নেমে তাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা তাকে মারধরও করেন।
আতাউর রহমান বলেন, আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধেই অশালীন আচরণের অভিযোগ তোলে। পরে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মহির মারুফ, যিনি বর্তমানে ইউএনবিতে কর্মরত, বলেন তিনি একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারকে সিগন্যালে থামতে দেখেন। এরপর সামনের আসন থেকে একজন নেমে আতাউর রহমানকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, পরিস্থিতি দেখে তিনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে যান। পরে ফিরে এসে দেখেন চারজন মিলে আতাউর রহমানকে গাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মারুফের দাবি, পথচারীরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে অভিযুক্তরা পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা আতাউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং তাকে মারধরও করে। পরে জনতার উপস্থিতি বাড়তে থাকলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একটি গাড়ি হঠাৎ থামিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি একজনকে জোর করে ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে গেলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
পুলিশের তদন্ত
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরও শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















