পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাঠ হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারীরা নকল নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছিল। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও।
বুধবার গভীর রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন ৪১ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ রাঠ। সেই সময় একটি রুপালি রঙের গাড়িতে এসে হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে নকল নম্বরপ্লেটের সূত্র
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেট ছিল ভুয়া। প্রকৃত নিবন্ধন নম্বরটি শিলিগুড়ির হলেও সেটি বদলে অন্য নম্বর লাগানো হয়েছিল। হামলার পর ওই গাড়িটি ঘটনাস্থলের কাছেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। পরে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে, যেটিতেও নকল নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করছেন।
‘টার্গেট করে খুন’
চন্দ্রনাথ রাঠের মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তার সহকারীকে টার্গেট করা হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, যদি চন্দ্রনাথ তার সহকারী না হতেন, তাহলে হয়তো এই হামলার শিকার হতে হতো না। তিনি দাবি করেন, ভাড়াটে খুনিরা এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় নজরদারি চালানোর পর এই হামলা করেছে। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
চন্দ্রনাথের পরিচিতরা জানান, তিনি পেশায় পাইলট ছিলেন। পরে সেই কাজ ছেড়ে ব্যক্তিগত চাকরি করেন এবং গত আট বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজ করছিলেন। এলাকায় সবাই তাকে ‘চন্দ্র’ নামেই চিনতেন।

চোখের সামনে রক্তাক্ত দৃশ্য
ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গাড়ির ভেতরে তিনজনকে দেখতে পান। দু’জন রক্তাক্ত ছিলেন এবং একজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। তখনও তারা জীবিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে চন্দ্রনাথের মা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে শোকাহত মা হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মধ্যমগ্রামের এই হত্যাকাণ্ড এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তদন্তে নকল নম্বরপ্লেট, পরিকল্পিত নজরদারি ও পেশাদার হামলার বিষয় সামনে আসায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী হত্যাকাণ্ডে নকল নম্বরপ্লেটের গাড়ির ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চাঞ্চল্য, তদন্তে নেমেছে বিশেষ দল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















