মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের প্রবল চাহিদায় এশিয়ার প্রযুক্তি ও চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিশ্ববাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শুক্রবার এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে ইউরোপীয় শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোতে কিছুটা পতন দেখা যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় এলাকায় সামরিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও নতুন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিস্থিতিকে সীমিত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এক মাসের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তবে বাজারে এখনো আশাবাদ রয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে উভয় পক্ষ সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির আলোচনা চলমান থাকায় বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে এখনই ধরে নিচ্ছেন না।
জেপি মরগ্যান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশলবিদ কেরি ক্রেগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট আয় শক্তিশালী থাকায় বাজার এখনো ইতিবাচক দিকেই নজর রাখছে।
এআই উন্মাদনায় এশিয়ার বাজারে রেকর্ড উত্থান
যুক্তরাষ্ট্রের বড় এআই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় পরিকল্পনা ও আয় বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুবিধা পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক শেয়ারবাজারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক সপ্তাহজুড়ে ১৩ শতাংশের বেশি বাড়ার পথে রয়েছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান। স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের শক্তিশালী উল্লম্ফন এই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
তাইওয়ানের শেয়ারবাজার সূচক এই সপ্তাহে ৭ শতাংশ বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচকও ৫ দশমিক ২ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা, নজরে ইয়েন
মুদ্রাবাজার তুলনামূলক স্থির থাকলেও জাপানি ইয়েন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। মে মাসের শুরুতে ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান সরকার বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ছিল ১৫৬ দশমিক ৮। অন্যদিকে ইউরো, অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং চীনা ইউয়ানও তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউয়ান এশিয়ার সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও ব্রিটিশ রাজনীতিতে নজর
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের নন-ফার্ম পেরোল বা কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে চাকরি বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দুর্বল ফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে ব্রিটিশ বন্ডবাজারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্ককে অযৌক্তিক বলে রায় দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্রুত আপিল হওয়ায় এর বড় প্রভাব পড়বে না।
বিটকয়েনও টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রেখেছে। শুক্রবার এর মূল্য ছিল প্রায় ৭৯ হাজার ৬৮০ ডলার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















