০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা? কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক? বাবার শরীর, সন্তানের ভবিষ্যৎ: প্রজননস্বাস্থ্যের আলোচনায় পুরুষেরা কেন অনুপস্থিত

হরমুজ প্রণালিতে গোপনে তেল পাঠাচ্ছে আমিরাত, যুদ্ধের ঝুঁকিতে নতুন কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন কৌশলে তেল রপ্তানি শুরু করেছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা এড়াতে তেলবাহী জাহাজগুলোর অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ রেখে গোপনে তেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তেল পরিবহনে গোপন কৌশল

সম্প্রতি অন্তত চারটি বড় তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে আমিরাতের আপার জাকুম ও দাস ক্রুড বহন করা হচ্ছিল। এসব জাহাজ চলাচলের সময় স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়, যাতে তাদের গতিবিধি সহজে শনাক্ত করা না যায়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আমিরাতকে বিকল্প ও গোপন উপায়ে তেল রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও এশিয়ায় যাচ্ছে তেল

জানা গেছে, কিছু জাহাজ সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার শোধনাগারে যাচ্ছে, আবার কিছু জাহাজ ওমান বা মালয়েশিয়ার উপকূলে গিয়ে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। এরপর সেখান থেকে ছোট চালানে বিভিন্ন এশীয় দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন দ্রুত জাহাজ খালি করা যাচ্ছে, অন্যদিকে বড় জাহাজগুলো দ্রুত আবার উপসাগরে ফিরে নতুন চালান তুলতে পারছে। এতে যুদ্ধকালীন ঝুঁকির মধ্যেও রপ্তানি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

Crude tanker ODESSA carrying UAE crude and after passing through the Strait of Hormuz arrives in Seosan

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি ব্যাহত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি গত বছরের তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কম তেল রপ্তানি করছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে তারা ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি একটি খালি আমিরাতি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এদিকে এশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আমিরাত। মে মাসের নতুন চালান নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধের ঝুঁকি থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবাহ সচল রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশটি।

হরমুজ সংকটে গোপন তেল রপ্তানিতে আমিরাতের নতুন কৌশল

হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মধ্যে গোপনে তেল রপ্তানি করছে আমিরাত। ইরানি হামলার আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হচ্ছে জাহাজের শনাক্তকারী যন্ত্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা?

হরমুজ প্রণালিতে গোপনে তেল পাঠাচ্ছে আমিরাত, যুদ্ধের ঝুঁকিতে নতুন কৌশল

০৭:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন কৌশলে তেল রপ্তানি শুরু করেছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা এড়াতে তেলবাহী জাহাজগুলোর অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ রেখে গোপনে তেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তেল পরিবহনে গোপন কৌশল

সম্প্রতি অন্তত চারটি বড় তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে আমিরাতের আপার জাকুম ও দাস ক্রুড বহন করা হচ্ছিল। এসব জাহাজ চলাচলের সময় স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়, যাতে তাদের গতিবিধি সহজে শনাক্ত করা না যায়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আমিরাতকে বিকল্প ও গোপন উপায়ে তেল রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও এশিয়ায় যাচ্ছে তেল

জানা গেছে, কিছু জাহাজ সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার শোধনাগারে যাচ্ছে, আবার কিছু জাহাজ ওমান বা মালয়েশিয়ার উপকূলে গিয়ে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। এরপর সেখান থেকে ছোট চালানে বিভিন্ন এশীয় দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন দ্রুত জাহাজ খালি করা যাচ্ছে, অন্যদিকে বড় জাহাজগুলো দ্রুত আবার উপসাগরে ফিরে নতুন চালান তুলতে পারছে। এতে যুদ্ধকালীন ঝুঁকির মধ্যেও রপ্তানি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

Crude tanker ODESSA carrying UAE crude and after passing through the Strait of Hormuz arrives in Seosan

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি ব্যাহত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি গত বছরের তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কম তেল রপ্তানি করছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে তারা ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি একটি খালি আমিরাতি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এদিকে এশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আমিরাত। মে মাসের নতুন চালান নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধের ঝুঁকি থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবাহ সচল রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশটি।

হরমুজ সংকটে গোপন তেল রপ্তানিতে আমিরাতের নতুন কৌশল

হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মধ্যে গোপনে তেল রপ্তানি করছে আমিরাত। ইরানি হামলার আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হচ্ছে জাহাজের শনাক্তকারী যন্ত্র।