০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭ মসলাদার গরুর মাংসের টাকো বাটি যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন ব্যবহারের পথ খুলল চীন, বদলাল প্রতিরক্ষা আইন বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় বনে ছেড়ে দেওয়া ৯ ধীরলোরির ৭টিই মারা গেল ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই

আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর

আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভরাডুবির পর কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী রাইজর দলের নেতা অখিল গগৈ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও কার্যকর কৌশলই ছিল না বিরোধীদের। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচারেও ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

নির্বাচনে বিরোধী জোটের ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হওয়া অখিল গগৈ বলেন, বিজেপি বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠ তৈরি করেছে, কিন্তু বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে জোট চূড়ান্ত করতেই সময় নষ্ট করেছে। ভোটের মাত্র ২০ দিন আগে কংগ্রেস ও রাইজর দলের জোট চূড়ান্ত হওয়ায় প্রচারে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৌশলহীন বিরোধী শিবির

সিবসাগর কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত অখিল গগৈ দাবি করেন, বিজেপি একসঙ্গে একাধিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তার অভিযোগ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ, বাংলাদেশি ইস্যু, উচ্ছেদ অভিযান এবং ‘মিয়া’ রাজনীতি ব্যবহার করে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাংক আরও মজবুত করেছে।

অখিলের বক্তব্য, বিরোধী শিবির এসবের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে পারেনি। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, উন্নয়নের রাজনীতি, সরকারি সুবিধাভোগী প্রকল্প, অতিরাষ্ট্রবাদ এবং গণমাধ্যমকেও নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব

অসম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকা দেবব্রত শইকিয়াকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অখিল গগৈ। তার অভিযোগ, বিধানসভায় কংগ্রেসের ২৯ জন সদস্য থাকলেও কার্যকর বিরোধিতার কোনও চিত্র দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন বরার দল ছেড়ে যাওয়াই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে দলের ভিতরে বড় সমস্যা রয়েছে।

Team Rahul' And 'Team Priyanka': Inside Congress' Plans For Kerala And Assam

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রচার নিয়েও প্রশ্ন

অখিল গগৈয়ের অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অসম সফর করলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে যথেষ্ট সময় দেননি। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অসমে প্রচারে এলেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মাত্র দু’দিন করে প্রচার চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, জোটের শরিকদের মধ্যে যৌথ প্রচারও কার্যকরভাবে হয়নি। ফলে ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব

অখিল গগৈয়ের বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতারাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেবব্রত শইকিয়া দাবি করেছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া অখিল গগৈ সিবসাগরে জিততে পারতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব কথা বললে অখিলকে আরও সাহসী বলা যেত।

অসম মহিলা কংগ্রেস নেত্রী মীরা বরঠাকুর গোঁসাঁইও অখিলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, জোটের পরাজয়ের জন্য এককভাবে কংগ্রেসকে দায়ী করা ঠিক নয়।

অসম রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন

নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে আসায় অসম রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিপক্ষে শক্তিশালী বিরোধী মঞ্চ গড়ার দাবি থাকলেও বাস্তবে জোটের ভিত কতটা দুর্বল ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে উঠে আসছে।

অসমে কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অসম নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জোটসঙ্গী অখিল গগৈয়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭

আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর

০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভরাডুবির পর কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী রাইজর দলের নেতা অখিল গগৈ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও কার্যকর কৌশলই ছিল না বিরোধীদের। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচারেও ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

নির্বাচনে বিরোধী জোটের ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হওয়া অখিল গগৈ বলেন, বিজেপি বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠ তৈরি করেছে, কিন্তু বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে জোট চূড়ান্ত করতেই সময় নষ্ট করেছে। ভোটের মাত্র ২০ দিন আগে কংগ্রেস ও রাইজর দলের জোট চূড়ান্ত হওয়ায় প্রচারে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৌশলহীন বিরোধী শিবির

সিবসাগর কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত অখিল গগৈ দাবি করেন, বিজেপি একসঙ্গে একাধিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তার অভিযোগ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ, বাংলাদেশি ইস্যু, উচ্ছেদ অভিযান এবং ‘মিয়া’ রাজনীতি ব্যবহার করে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাংক আরও মজবুত করেছে।

অখিলের বক্তব্য, বিরোধী শিবির এসবের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে পারেনি। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, উন্নয়নের রাজনীতি, সরকারি সুবিধাভোগী প্রকল্প, অতিরাষ্ট্রবাদ এবং গণমাধ্যমকেও নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব

অসম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকা দেবব্রত শইকিয়াকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অখিল গগৈ। তার অভিযোগ, বিধানসভায় কংগ্রেসের ২৯ জন সদস্য থাকলেও কার্যকর বিরোধিতার কোনও চিত্র দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন বরার দল ছেড়ে যাওয়াই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে দলের ভিতরে বড় সমস্যা রয়েছে।

Team Rahul' And 'Team Priyanka': Inside Congress' Plans For Kerala And Assam

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রচার নিয়েও প্রশ্ন

অখিল গগৈয়ের অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অসম সফর করলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে যথেষ্ট সময় দেননি। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অসমে প্রচারে এলেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মাত্র দু’দিন করে প্রচার চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, জোটের শরিকদের মধ্যে যৌথ প্রচারও কার্যকরভাবে হয়নি। ফলে ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব

অখিল গগৈয়ের বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতারাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেবব্রত শইকিয়া দাবি করেছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া অখিল গগৈ সিবসাগরে জিততে পারতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব কথা বললে অখিলকে আরও সাহসী বলা যেত।

অসম মহিলা কংগ্রেস নেত্রী মীরা বরঠাকুর গোঁসাঁইও অখিলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, জোটের পরাজয়ের জন্য এককভাবে কংগ্রেসকে দায়ী করা ঠিক নয়।

অসম রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন

নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে আসায় অসম রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিপক্ষে শক্তিশালী বিরোধী মঞ্চ গড়ার দাবি থাকলেও বাস্তবে জোটের ভিত কতটা দুর্বল ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে উঠে আসছে।

অসমে কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অসম নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জোটসঙ্গী অখিল গগৈয়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।