০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা? কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক? বাবার শরীর, সন্তানের ভবিষ্যৎ: প্রজননস্বাস্থ্যের আলোচনায় পুরুষেরা কেন অনুপস্থিত

আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর

আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভরাডুবির পর কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী রাইজর দলের নেতা অখিল গগৈ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও কার্যকর কৌশলই ছিল না বিরোধীদের। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচারেও ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

নির্বাচনে বিরোধী জোটের ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হওয়া অখিল গগৈ বলেন, বিজেপি বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠ তৈরি করেছে, কিন্তু বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে জোট চূড়ান্ত করতেই সময় নষ্ট করেছে। ভোটের মাত্র ২০ দিন আগে কংগ্রেস ও রাইজর দলের জোট চূড়ান্ত হওয়ায় প্রচারে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৌশলহীন বিরোধী শিবির

সিবসাগর কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত অখিল গগৈ দাবি করেন, বিজেপি একসঙ্গে একাধিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তার অভিযোগ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ, বাংলাদেশি ইস্যু, উচ্ছেদ অভিযান এবং ‘মিয়া’ রাজনীতি ব্যবহার করে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাংক আরও মজবুত করেছে।

অখিলের বক্তব্য, বিরোধী শিবির এসবের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে পারেনি। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, উন্নয়নের রাজনীতি, সরকারি সুবিধাভোগী প্রকল্প, অতিরাষ্ট্রবাদ এবং গণমাধ্যমকেও নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব

অসম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকা দেবব্রত শইকিয়াকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অখিল গগৈ। তার অভিযোগ, বিধানসভায় কংগ্রেসের ২৯ জন সদস্য থাকলেও কার্যকর বিরোধিতার কোনও চিত্র দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন বরার দল ছেড়ে যাওয়াই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে দলের ভিতরে বড় সমস্যা রয়েছে।

Team Rahul' And 'Team Priyanka': Inside Congress' Plans For Kerala And Assam

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রচার নিয়েও প্রশ্ন

অখিল গগৈয়ের অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অসম সফর করলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে যথেষ্ট সময় দেননি। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অসমে প্রচারে এলেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মাত্র দু’দিন করে প্রচার চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, জোটের শরিকদের মধ্যে যৌথ প্রচারও কার্যকরভাবে হয়নি। ফলে ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব

অখিল গগৈয়ের বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতারাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেবব্রত শইকিয়া দাবি করেছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া অখিল গগৈ সিবসাগরে জিততে পারতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব কথা বললে অখিলকে আরও সাহসী বলা যেত।

অসম মহিলা কংগ্রেস নেত্রী মীরা বরঠাকুর গোঁসাঁইও অখিলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, জোটের পরাজয়ের জন্য এককভাবে কংগ্রেসকে দায়ী করা ঠিক নয়।

অসম রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন

নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে আসায় অসম রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিপক্ষে শক্তিশালী বিরোধী মঞ্চ গড়ার দাবি থাকলেও বাস্তবে জোটের ভিত কতটা দুর্বল ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে উঠে আসছে।

অসমে কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অসম নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জোটসঙ্গী অখিল গগৈয়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা?

আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর

০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভরাডুবির পর কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী রাইজর দলের নেতা অখিল গগৈ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও কার্যকর কৌশলই ছিল না বিরোধীদের। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচারেও ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

নির্বাচনে বিরোধী জোটের ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হওয়া অখিল গগৈ বলেন, বিজেপি বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠ তৈরি করেছে, কিন্তু বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে জোট চূড়ান্ত করতেই সময় নষ্ট করেছে। ভোটের মাত্র ২০ দিন আগে কংগ্রেস ও রাইজর দলের জোট চূড়ান্ত হওয়ায় প্রচারে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৌশলহীন বিরোধী শিবির

সিবসাগর কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত অখিল গগৈ দাবি করেন, বিজেপি একসঙ্গে একাধিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তার অভিযোগ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ, বাংলাদেশি ইস্যু, উচ্ছেদ অভিযান এবং ‘মিয়া’ রাজনীতি ব্যবহার করে বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাংক আরও মজবুত করেছে।

অখিলের বক্তব্য, বিরোধী শিবির এসবের বিরুদ্ধে কোনও পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে পারেনি। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, উন্নয়নের রাজনীতি, সরকারি সুবিধাভোগী প্রকল্প, অতিরাষ্ট্রবাদ এবং গণমাধ্যমকেও নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব

অসম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকা দেবব্রত শইকিয়াকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অখিল গগৈ। তার অভিযোগ, বিধানসভায় কংগ্রেসের ২৯ জন সদস্য থাকলেও কার্যকর বিরোধিতার কোনও চিত্র দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন বরার দল ছেড়ে যাওয়াই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে দলের ভিতরে বড় সমস্যা রয়েছে।

Team Rahul' And 'Team Priyanka': Inside Congress' Plans For Kerala And Assam

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রচার নিয়েও প্রশ্ন

অখিল গগৈয়ের অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অসম সফর করলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে যথেষ্ট সময় দেননি। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অসমে প্রচারে এলেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মাত্র দু’দিন করে প্রচার চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, জোটের শরিকদের মধ্যে যৌথ প্রচারও কার্যকরভাবে হয়নি। ফলে ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব

অখিল গগৈয়ের বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতারাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেবব্রত শইকিয়া দাবি করেছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া অখিল গগৈ সিবসাগরে জিততে পারতেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব কথা বললে অখিলকে আরও সাহসী বলা যেত।

অসম মহিলা কংগ্রেস নেত্রী মীরা বরঠাকুর গোঁসাঁইও অখিলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, জোটের পরাজয়ের জন্য এককভাবে কংগ্রেসকে দায়ী করা ঠিক নয়।

অসম রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন

নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে আসায় অসম রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিপক্ষে শক্তিশালী বিরোধী মঞ্চ গড়ার দাবি থাকলেও বাস্তবে জোটের ভিত কতটা দুর্বল ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে উঠে আসছে।

অসমে কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অসম নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জোটসঙ্গী অখিল গগৈয়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।