মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে আরও সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। তিনি বলেছেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বড় শক্তিগুলোর সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে আসিয়ান অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রাবোও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট বিশ্বকে একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধ ও সংঘাত শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ডেকে আনে। তাই আসিয়ানকে অতীতের বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আসিয়ানকে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন কৌশলের আহ্বান
প্রাবোও জোর দিয়ে বলেন, আসিয়ানকে দ্রুত জ্বালানি কাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে। শুধু এক ধরনের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে।
তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ধাক্কা লাগলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়বে। তাই আগেভাগেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
সমুদ্রপথ সুরক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব
আসিয়ান অঞ্চলের কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এসব রুটে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাই নয়, খাদ্য ও জ্বালানি পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হবে।
বিশেষ করে মালাক্কা প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেলে এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলেও পড়তে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তায় সমন্বয়ের তাগিদ
খাদ্য সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রাবোও। পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন, খাদ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জরুরি চাল মজুত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
আসিয়ান প্লাস থ্রি জরুরি চাল ভান্ডার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও যুক্ত রয়েছে।
জ্বালানি জরুরি অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও আকাশপথে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আসিয়ান নেতারা সম্মিলিতভাবে যুদ্ধবিরতি, শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মার্কোস আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আঞ্চলিক কাঠামো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তভিত্তিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতারা একমত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আসিয়ান এখন শুধু সংকটে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, বরং আগাম প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
বিশ্ব সংকটের মুখে আসিয়ান ঐক্য, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















