০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধের পরও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের টানাপোড়েন

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ফাটল থেকে যেতে পারে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধ শেষ হলেও সহজে মুছে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা এবং মিত্রদের প্রতি কড়া অবস্থান ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সমালোচনা উঠেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ দেশগুলো ভাবতে শুরু করেছে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে।

মিত্রদের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চেহারা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে। ন্যাটো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উপসাগরীয় দেশ—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি অনেক মিত্রের কাছে সেই পুরনো নিশ্চয়তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। আবার ট্রাম্পও তাদের সমালোচনা করেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং ব্রিটেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তিতে আছে।

চীন ও রাশিয়ার সুযোগ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটে ফাটল ধরলে চীন ও রাশিয়া কৌশলগত সুযোগ নিতে পারে। ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তাহলে তাকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোও ভাবতে পারে, ভবিষ্যতে চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভর করা যাবে।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষাও। যুদ্ধ শেষ হলেও যদি মিত্রদের মনে সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈশ্বিক জোট, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন

ইরান যুদ্ধের পরও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের টানাপোড়েন

০৪:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ফাটল থেকে যেতে পারে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধ শেষ হলেও সহজে মুছে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা এবং মিত্রদের প্রতি কড়া অবস্থান ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সমালোচনা উঠেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ দেশগুলো ভাবতে শুরু করেছে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে।

মিত্রদের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চেহারা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে। ন্যাটো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উপসাগরীয় দেশ—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি অনেক মিত্রের কাছে সেই পুরনো নিশ্চয়তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। আবার ট্রাম্পও তাদের সমালোচনা করেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং ব্রিটেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তিতে আছে।

চীন ও রাশিয়ার সুযোগ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটে ফাটল ধরলে চীন ও রাশিয়া কৌশলগত সুযোগ নিতে পারে। ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তাহলে তাকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোও ভাবতে পারে, ভবিষ্যতে চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভর করা যাবে।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষাও। যুদ্ধ শেষ হলেও যদি মিত্রদের মনে সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈশ্বিক জোট, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।