০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার সুপারমার্কেটে ভুয়া ছাড়ের ফাঁদ, বিভ্রান্তির দায়ে আদালতে দোষী কোলস ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে উত্তপ্ত ব্রিকস বৈঠক, চাপে ভারত ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানীতে বিলাসী গাড়ি বিতর্ক, ক্ষমতার কেন্দ্রে ‘মাসউদ পরিবার’ ইন্দোনেশিয়ায় চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন চীন সফরে ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে কূটনৈতিক সমঝোতার আশঙ্কা শি-ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বার্তা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও স্থিতিশীল সম্পর্ক চায় বেইজিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চাকরি টিকিয়ে রাখতে বদলাতে হবে দক্ষতা: সিঙ্গাপুরের বার্তা শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা, আড়ালে রইল তাইওয়ান ইস্যুর টানাপোড়েন স্বেচ্ছাসেবায় করপোরেট জাগরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় সিঙ্গাপুর চীনের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্পের, বৈঠকে উঠে এলো ইরান-তাইওয়ান ইস্যুও

ইরান যুদ্ধের পরও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের টানাপোড়েন

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ফাটল থেকে যেতে পারে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধ শেষ হলেও সহজে মুছে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা এবং মিত্রদের প্রতি কড়া অবস্থান ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সমালোচনা উঠেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ দেশগুলো ভাবতে শুরু করেছে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে।

মিত্রদের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চেহারা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে। ন্যাটো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উপসাগরীয় দেশ—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি অনেক মিত্রের কাছে সেই পুরনো নিশ্চয়তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। আবার ট্রাম্পও তাদের সমালোচনা করেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং ব্রিটেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তিতে আছে।

চীন ও রাশিয়ার সুযোগ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটে ফাটল ধরলে চীন ও রাশিয়া কৌশলগত সুযোগ নিতে পারে। ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তাহলে তাকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোও ভাবতে পারে, ভবিষ্যতে চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভর করা যাবে।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষাও। যুদ্ধ শেষ হলেও যদি মিত্রদের মনে সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈশ্বিক জোট, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার সুপারমার্কেটে ভুয়া ছাড়ের ফাঁদ, বিভ্রান্তির দায়ে আদালতে দোষী কোলস

ইরান যুদ্ধের পরও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের টানাপোড়েন

০৪:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেও মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ফাটল থেকে যেতে পারে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা যুদ্ধ শেষ হলেও সহজে মুছে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা এবং মিত্রদের প্রতি কড়া অবস্থান ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ট্রাম্প জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সমালোচনা উঠেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ দেশগুলো ভাবতে শুরু করেছে, সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে।

মিত্রদের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চেহারা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে। ন্যাটো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উপসাগরীয় দেশ—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি অনেক মিত্রের কাছে সেই পুরনো নিশ্চয়তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। আবার ট্রাম্পও তাদের সমালোচনা করেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং ব্রিটেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অস্বস্তিতে আছে।

চীন ও রাশিয়ার সুযোগ

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটে ফাটল ধরলে চীন ও রাশিয়া কৌশলগত সুযোগ নিতে পারে। ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তাহলে তাকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোও ভাবতে পারে, ভবিষ্যতে চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভর করা যাবে।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষাও। যুদ্ধ শেষ হলেও যদি মিত্রদের মনে সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈশ্বিক জোট, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।