কারাগারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, জাতীয় গ্রিডে যাবে ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
দেশের কারাগারগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে কারাগারের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
সরকারি স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কারাগারগুলো সাধারণত বড় স্থাপনা, বিস্তৃত ছাদ এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকা নিয়ে গঠিত। এসব ছাদ দীর্ঘদিন ব্যবহারহীন থাকলে তা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাজে লাগানো সম্ভব।
অব্যবহৃত ছাদ থেকে বিদ্যুৎ
বাংলাদেশে জমির চাপ অনেক বেশি। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিস্তৃত খালি জমি পাওয়া কঠিন। ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার একটি বাস্তবসম্মত পথ। সরকারি ভবন, কারাগার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, শিল্প কারখানা এবং গুদামের ছাদ ব্যবহার করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কারাগারের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হলে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি স্থাপনার বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে গেলে তা সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়ক হতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস, তেল, কয়লা ও আমদানি নির্ভরতার চাপে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়ে। তাই সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস নিয়ে বাস্তবমুখী প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ।
কারাগারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সফল হলে এটি অন্য সরকারি স্থাপনায়ও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, ছোট ছোট ছাদভিত্তিক প্রকল্প একত্রে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে মানসম্মত প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, গ্রিড সংযোগ এবং স্বচ্ছ ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















