০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই

পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, পুলিশ চৌকিতে নিহত অন্তত ১৫

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

রোববার স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গভীর রাতে ফতেহ খেল এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দ্রুতগতিতে পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পরপরই একদল সশস্ত্র জঙ্গি পোস্টের ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সমন্বিত। বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু পুলিশ সদস্য নিহত হন।

ড্রোন ও ভারী অস্ত্রের ব্যবহার

বান্নুর এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, ছোট আকারের ড্রোনও ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, হামলার সময় কোয়াডকপ্টার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও সমন্বয় করা হয়। একই সঙ্গে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

কর্মকর্তাদের ধারণা, ১০০ জনের বেশি জঙ্গি এই হামলায় অংশ নেয়। হামলার সময় চেকপোস্ট কার্যত ঘিরে ফেলা হয়, ফলে পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।

অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পিছু হটার সময় চেকপোস্ট থেকে কিছু পুলিশ সদস্য এবং অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে যায়। এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

3 Pakistani national police killed, 12 others hurt, in suicide bombing -  UPI.com

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।

সীমান্তজুড়ে বাড়ছে সহিংসতা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জঙ্গি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ এবং আফগান শহরগুলোতে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বান্নুর এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গিদের সংগঠিত উপস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ

পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, পুলিশ চৌকিতে নিহত অন্তত ১৫

০৬:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

রোববার স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গভীর রাতে ফতেহ খেল এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দ্রুতগতিতে পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পরপরই একদল সশস্ত্র জঙ্গি পোস্টের ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সমন্বিত। বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু পুলিশ সদস্য নিহত হন।

ড্রোন ও ভারী অস্ত্রের ব্যবহার

বান্নুর এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, ছোট আকারের ড্রোনও ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, হামলার সময় কোয়াডকপ্টার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও সমন্বয় করা হয়। একই সঙ্গে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

কর্মকর্তাদের ধারণা, ১০০ জনের বেশি জঙ্গি এই হামলায় অংশ নেয়। হামলার সময় চেকপোস্ট কার্যত ঘিরে ফেলা হয়, ফলে পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।

অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পিছু হটার সময় চেকপোস্ট থেকে কিছু পুলিশ সদস্য এবং অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে যায়। এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

3 Pakistani national police killed, 12 others hurt, in suicide bombing -  UPI.com

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।

সীমান্তজুড়ে বাড়ছে সহিংসতা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জঙ্গি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ এবং আফগান শহরগুলোতে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বান্নুর এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গিদের সংগঠিত উপস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।