০৩:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বে টালমাটাল লেবার, ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

মমতার ডাক, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে এক হোক বিরোধীরা’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর এবার বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনের ফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দল আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

কলকাতায় নিজের বাসভবনের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, রাজ্যে এখন “সন্ত্রাসের শাসন” শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলায় এবং দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলা জরুরি। জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি বামপন্থী ও অতিবাম শক্তিকেও এই লড়াইয়ে একসঙ্গে আসার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

নির্বাচনের ফল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “চিন্তার কিছু নেই, আমরা এই লড়াই লড়ব।” তাঁর দাবি, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, প্রশান্ত ভূষণ ও মেনকা গুরুস্বামীর মতো আইনজীবীরা এই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে রয়েছেন।

মমতা নিজেও আইনজীবী পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের দলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও রয়েছেন, যারা এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন। তাঁর কথায়, “আমরা জানি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”

ফোনে যোগাযোগ বিরোধী নেতাদের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের প্রায় সব বড় বিরোধী নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদব, হেমন্ত সোরেন ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। অখিলেশ যাদব ব্যক্তিগতভাবে কলকাতায় এসে দেখা করেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। ফল ঘোষণার পর থেকেই মমতা অভিযোগ করে আসছেন যে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ভোট গণনায় কারচুপি করেছে।

পরাজয়ের পরও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। শনিবার তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনেন। সেখানে নিজেকে “পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেবাসুবিধা প্রত্যাহারের অভিযোগ

মমতা আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করতেন তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতার কালীঘাট এলাকায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের জন্য একাধিক স্থানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বাংলার উন্নয়নের জন্য তাঁদের অনেক কাজ রয়েছে এবং যারা রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে তাদের নিয়ে সময় নষ্ট করতে চান না তাঁরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বে টালমাটাল লেবার, ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

মমতার ডাক, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে এক হোক বিরোধীরা’

০৬:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর এবার বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনের ফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দল আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

কলকাতায় নিজের বাসভবনের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, রাজ্যে এখন “সন্ত্রাসের শাসন” শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলায় এবং দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলা জরুরি। জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি বামপন্থী ও অতিবাম শক্তিকেও এই লড়াইয়ে একসঙ্গে আসার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

নির্বাচনের ফল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “চিন্তার কিছু নেই, আমরা এই লড়াই লড়ব।” তাঁর দাবি, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, প্রশান্ত ভূষণ ও মেনকা গুরুস্বামীর মতো আইনজীবীরা এই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে রয়েছেন।

মমতা নিজেও আইনজীবী পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের দলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও রয়েছেন, যারা এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন। তাঁর কথায়, “আমরা জানি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”

ফোনে যোগাযোগ বিরোধী নেতাদের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের প্রায় সব বড় বিরোধী নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদব, হেমন্ত সোরেন ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। অখিলেশ যাদব ব্যক্তিগতভাবে কলকাতায় এসে দেখা করেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। ফল ঘোষণার পর থেকেই মমতা অভিযোগ করে আসছেন যে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ভোট গণনায় কারচুপি করেছে।

পরাজয়ের পরও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। শনিবার তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনেন। সেখানে নিজেকে “পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেবাসুবিধা প্রত্যাহারের অভিযোগ

মমতা আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করতেন তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতার কালীঘাট এলাকায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের জন্য একাধিক স্থানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বাংলার উন্নয়নের জন্য তাঁদের অনেক কাজ রয়েছে এবং যারা রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে তাদের নিয়ে সময় নষ্ট করতে চান না তাঁরা।