০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগের দিনে টিকে থাকার পাঠ: কেন বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের দুশ্চিন্তা, প্রশ্নের উত্তর দিলেন জো হার্ট ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা

চীনকে খাদ্য ও সার মজুত বন্ধের আহ্বান, বৈশ্বিক সংকট আরও গভীর হওয়ার শঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও সারের সরবরাহ সংকট যখন তীব্র আকার নিচ্ছে, তখন চীনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাদ্য ও সার মজুতের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান ডেভিড ম্যালপাস। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমাতে বেইজিংকে এখনই তাদের মজুত নীতি পরিবর্তন করতে হবে।

বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগের দিন এক সাক্ষাৎকারে ম্যালপাস বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও সারের মজুত এখন চীনের হাতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি চাইলে নতুন করে মজুত বাড়ানো বন্ধ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে সারের সংকট

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বসন্তকালীন চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

China restricts fertiliser exports, further crimping war-tightened supply |  Reuters

এই অবস্থায় চীন গত মার্চ থেকেই সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। দেশটির দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ নিরাপদ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করছে।

‘উন্নয়নশীল দেশের’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন

ডেভিড ম্যালপাস আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও চীনের নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, অর্থনৈতিক শক্তি ও সম্পদের দিক থেকে চীন বহু ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ দেশের অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

তিনি মনে করেন, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনের বিশেষ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে বড় অর্থনীতিগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Navigating uncertainty: Lessons from ongoing social protection responses to  high energy prices | Brookings

ভূরাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন চাপ

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অর্থনীতিগুলোর নীতি ও মজুত কৌশল আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন যদি রপ্তানি ও মজুত নীতিতে পরিবর্তন আনে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

Food Security Fears Grow Amid Fuel and Fertiliser Crisis

 

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন

চীনকে খাদ্য ও সার মজুত বন্ধের আহ্বান, বৈশ্বিক সংকট আরও গভীর হওয়ার শঙ্কা

১০:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও সারের সরবরাহ সংকট যখন তীব্র আকার নিচ্ছে, তখন চীনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাদ্য ও সার মজুতের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান ডেভিড ম্যালপাস। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমাতে বেইজিংকে এখনই তাদের মজুত নীতি পরিবর্তন করতে হবে।

বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগের দিন এক সাক্ষাৎকারে ম্যালপাস বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও সারের মজুত এখন চীনের হাতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি চাইলে নতুন করে মজুত বাড়ানো বন্ধ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে সারের সংকট

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বসন্তকালীন চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

China restricts fertiliser exports, further crimping war-tightened supply |  Reuters

এই অবস্থায় চীন গত মার্চ থেকেই সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। দেশটির দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ নিরাপদ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করছে।

‘উন্নয়নশীল দেশের’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন

ডেভিড ম্যালপাস আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও চীনের নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, অর্থনৈতিক শক্তি ও সম্পদের দিক থেকে চীন বহু ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ দেশের অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

তিনি মনে করেন, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনের বিশেষ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে বড় অর্থনীতিগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Navigating uncertainty: Lessons from ongoing social protection responses to  high energy prices | Brookings

ভূরাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন চাপ

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অর্থনীতিগুলোর নীতি ও মজুত কৌশল আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন যদি রপ্তানি ও মজুত নীতিতে পরিবর্তন আনে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

Food Security Fears Grow Amid Fuel and Fertiliser Crisis