যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের পর যুদ্ধবিরতি এখন “টিকে থাকার লড়াইয়ে” আছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং দেশটির তেল রপ্তানি স্বাভাবিক করা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।

ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া
ইরানের পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের পাঠানো প্রস্তাব অত্যন্ত দুর্বল এবং এতে সমাধানের বদলে সংকট আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের শর্তগুলো ন্যায্য এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন কোনো হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে এখন আগের তুলনায় জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। যুদ্ধের কারণে এই পথ প্রায় অচল অবস্থায় চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে বলে জানা গেছে।

জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় তেল উৎপাদন ও রপ্তানিও কমেছে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে পড়ছে। বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশ এখন বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের পথ খুঁজছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করছেন যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশাসন পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়েও ওয়াশিংটন সমস্যায় পড়েছে। বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ পূর্ণ শান্তিচুক্তি ছাড়া হরমুজে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
চীন সফরে আলোচনায় থাকবে ইরান ইস্যু
এদিকে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরেও ইরান ইস্যু গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়াশিংটন চাইছে, বেইজিং তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সমঝোতার পথে আনুক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















