বাংলা নাট্যাঙ্গনের প্রখ্যাত অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর চলে যাওয়ার খবরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে বাসায় পড়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরবিদায় নিলেন বাংলা নাটকের এই কিংবদন্তি।
নাট্যাঙ্গনের প্রেরণার নাম

আতাউর রহমান শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যরচনা, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। স্বাধীনতার পর দেশের নাট্যচর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
সহকর্মী ও শিল্পীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁকে বাংলা নাটকের অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার এক বড় নাম।
সমৃদ্ধ কর্মজীবনের স্বীকৃতি
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাগুলোর মধ্যে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।
তাঁর অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব দেশের নাট্যচর্চায় স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। তাঁর মৃত্যুতে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
শেষ সময়ের লড়াই
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একাধিকবার তাঁর শারীরিক অবস্থার ওঠানামা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছিল।
আতাউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন হারালো এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে, যিনি আজীবন শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য কাজ করে গেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















