যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের ওষুধ মিফেপ্রিস্টোন ডাকযোগে পাঠানো ও অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের একটি সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সাময়িকভাবে আগের নিয়মই বহাল থাকছে এবং ডাকের মাধ্যমে এই ওষুধ সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া যাবে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এই স্থগিতাদেশ ১৪ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। এর ফলে নিম্ন আদালতের যে সিদ্ধান্তে মিফেপ্রিস্টোন ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা আসতে যাচ্ছিল, তা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
গর্ভপাত বিতর্ক আবারও আদালতে
এই মামলাটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য একটি মামলার মাধ্যমে দাবি করে, ২০২৩ সালে চালু হওয়া নিয়ম পরিবর্তনের কারণে গর্ভপাতের ওষুধের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে, যা তাদের রাজ্যের কঠোর গর্ভপাতবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাইডেন প্রশাসনের সময় খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এমন একটি নিয়ম চালু করেছিল, যাতে রোগীদের সরাসরি চিকিৎসকের কাছে না গিয়েও অনলাইনে পরামর্শ নিয়ে ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু নিউ অরলিন্সভিত্তিক আপিল আদালত সম্প্রতি সেই নিয়ম বাতিল করে আগের কঠোর শর্ত পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।
ওষুধ প্রস্তুতকারী দুই প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ
মিফেপ্রিস্টোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্যাঙ্কো ল্যাবরেটরিজ এবং জেনবায়োপ্রো আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। তারা যুক্তি দেয়, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারীদের গর্ভপাতসেবা পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে কমে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অধিকাংশ গর্ভপাতই ওষুধের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সাধারণত মিফেপ্রিস্টোনের পর আরেকটি ওষুধ মিসোপ্রোস্টল ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি দেশটির মোট গর্ভপাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
মামলাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গর্ভপাত ইস্যু এখন বড় রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ঐতিহাসিক ‘রো বনাম ওয়েড’ রায় বাতিল করার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু হয়। ইতোমধ্যে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় সম্পূর্ণভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কঠোর সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালেও গর্ভপাতবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর একটি প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে খারিজ করে দিয়েছিল। তখন আদালত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের শিথিল নীতিকে বহাল রাখে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















