দেশে হামের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকিদের মধ্যে ছিল হামের উপসর্গ। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির এই অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ শিশু। সব মিলিয়ে দেশে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে।

নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য সমন্বয় করার ফলে মৃত্যুর সংখ্যায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগের তথ্য যুক্ত হওয়ায় একদিনেই অতিরিক্ত ৫৭ শিশুর মৃত্যুর হিসাব যোগ হয়েছে।
তবে প্রকৃতপক্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালে বাড়ছে শিশুর চাপ

একই সময়ে নতুন করে ২০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি শিশু রয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে গত একদিনে ৪৯৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১১৬ শিশু। এর মধ্যে ৪৪৩ জনই ঢাকা বিভাগের।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র
সর্বশেষ মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন করে এবং বরিশাল বিভাগে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সিলেটে নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই কয়েক মাস বয়সী শিশু। একজন ওসমানী হাসপাতালে এবং অন্যজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণের গতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ শিশু।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















