দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও পানিব্যবস্থাকে নতুনভাবে সচল করতে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের আলোচিত এই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রায় ২৫ বছর আগে প্রথমবার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এবার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু নদী নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
পাংশায় নির্মাণ হবে মূল ব্যারাজ
প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং মাছ চলাচলের জন্য ২টি বিশেষ পথ।

এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হবে তিনটি অফটেক অবকাঠামো। পাশাপাশি প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও স্থাপন করা হবে।
পুনরুজ্জীবিত হবে পাঁচ নদী
পদ্মা ব্যারাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়ানো। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীতে শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে নদীগুলোর নাব্যতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় পরিবর্তনের আশা
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।

এতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতে এই প্রবৃদ্ধি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সুবিধার প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং নদী পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে এই সুফল মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বড় পানি ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন একনেকের অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার অপেক্ষা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















