ফ্রান্সের কান শহরে শুরু হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হলেও একটি বিষয় স্পষ্টভাবে নজর কেড়েছে—হলিউডের বড় স্টুডিও এবং বিশাল বাজেটের সিনেমার অনুপস্থিতি। ফলে স্বাধীনধারার নির্মাতাদের জন্য এবার পালমে দ’র লড়াই অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে মোট ২২টি সিনেমা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। যুদ্ধ, শোক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পারিবারিক সম্পর্কের মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে এবারের সিনেমাগুলোতে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কোনও ফেভারিট সিনেমা না থাকায় প্রতিযোগিতা এবার আরও অনিশ্চিত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
স্বাধীন সিনেমার বড় মঞ্চ

কান চলচ্চিত্র উৎসব দীর্ঘদিন ধরেই বড় বড় হলিউড সিনেমার প্রচারণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এবার সেই চেনা চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বড় স্টুডিওগুলো ঝুঁকি কমাতে সতর্ক অবস্থানে থাকায় বিশাল লালগালিচা আয়োজন কিংবা ব্লকবাস্টার মুক্তির ধারা অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে তারকাদের উপস্থিতিতে উৎসবের জৌলুস কমছে না। কিংবদন্তি শিল্পী বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ডকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা এবার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
পালমে দ’র দৌড়ে অভিজ্ঞ নির্মাতারা
এবারের প্রতিযোগিতায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন নামকরা নির্মাতা। রোমানিয়ার ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউ এবং জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা দ্বিতীয়বারের মতো পালমে দ’ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফিরেছেন।
কোরে-এদার নতুন সিনেমায় শোক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মুঙ্গিউর নতুন পারিবারিক নাটক নির্মিত হয়েছে নরওয়ের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের প্রেক্ষাপটে।
নির্বাচিত হওয়াকেই বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন মুঙ্গিউ। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত সিনেমার মঞ্চে জায়গা পাওয়াই বড় অর্জন।

রাজনীতি আছে, তবে কেন্দ্রে সিনেমা
এবারের উৎসবে রাজনৈতিক আবহও রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, নাৎসি দখলদারিত্ব এবং ঐতিহাসিক সংঘাতের পটভূমিতে নির্মিত কয়েকটি সিনেমা আলোচনায় এসেছে। তবে আয়োজকরা স্পষ্টভাবে সিনেমাকেই মূল আকর্ষণ হিসেবে রাখতে চাইছেন।
উৎসবের উদ্বোধনী সিনেমাটিও একটি রোমান্টিক কমেডি, যা পুরোনো প্যারিসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। নির্মাতাদের ভাষায়, কঠিন সময়ের মধ্যেও সৌন্দর্য ও কল্পনার জগৎকে তুলে ধরাই এই সিনেমার উদ্দেশ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও বাড়ছে
চলচ্চিত্র শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের কান উৎসবেও। চলচ্চিত্র বাজারের পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নির্মাতা ও কনটেন্ট সৃষ্টিকারীদের জন্য আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্যাশন জগতের বড় বড় নামও বরাবরের মতো উৎসব ঘিরে আলোচনায় থাকবেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় স্টুডিওর অনুপস্থিতিতে স্বাধীন সিনেমার জন্য এবারের কান উৎসব নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে পালমে দ’, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















