০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
জিএম কাদেরের অভিনন্দন বার্তা, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা আমিরাতে পাকিস্তানিদের গণবিতাড়ন, চাপে ইসলামাবাদ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসু গ্রেপ্তার, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ হামে শিশু মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল, আতঙ্ক বাড়ছে দেশজুড়ে পদ্মা ব্যারাজে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও নদী ব্যবস্থা কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ বিস্তার, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু জাকারবার্গের সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের হাতে পারকিনসন্স চিকিৎসা, নতুন আশার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহে আপাতত স্থিতাবস্থা, সুপ্রিম কোর্টের নতুন সিদ্ধান্ত চীনের সস্তা গাড়ি কি ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রে, বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক গাড়িবাজার কান উৎসবে এবার স্বাধীন সিনেমার দাপট, বড় স্টুডিওর অনুপস্থিতিতে জমে উঠছে পালমে দ’র লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুত ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এক্সন মোবিল, ট্রাফিগুরা ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান এই তেল ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত মাসে ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও কোম্পানিগুলো তার প্রায় ৫৮ শতাংশ গ্রহণ করেছে।

US to loan 53.3 million barrels of oil from Strategic Petroleum Reserve |  BOE Report

এর আগে চলতি বসন্তেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল ভান্ডার থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

হরমুজ সংকটের বড় প্রভাব

বিশ্বের প্রতিদিনের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান ওই রুটে চলাচল সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মার্চে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ৩০টির বেশি দেশ মিলে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই তেল ঋণ দিচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ও ইরানের অবস্থান

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে আরও তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়ছে। দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

করদাতাদের ওপর চাপ পড়বে না

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই তেল সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে না। কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে অপরিশোধিত তেল ফেরত দেবে এবং অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও পরিশোধ করবে। এতে সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলে দাবি প্রশাসনের।

বর্তমানে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার চারটি স্থাপনায় সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডারে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিশ্বে চার দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

US lends 53.3 million barrels from oil reserve amid Iran conflict By  Investing.com

জনপ্রিয় সংবাদ

জিএম কাদেরের অভিনন্দন বার্তা, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

১২:১৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুত ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এক্সন মোবিল, ট্রাফিগুরা ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান এই তেল ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত মাসে ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও কোম্পানিগুলো তার প্রায় ৫৮ শতাংশ গ্রহণ করেছে।

US to loan 53.3 million barrels of oil from Strategic Petroleum Reserve |  BOE Report

এর আগে চলতি বসন্তেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল ভান্ডার থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

হরমুজ সংকটের বড় প্রভাব

বিশ্বের প্রতিদিনের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান ওই রুটে চলাচল সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মার্চে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ৩০টির বেশি দেশ মিলে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই তেল ঋণ দিচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কতা

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ও ইরানের অবস্থান

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে আরও তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়ছে। দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

করদাতাদের ওপর চাপ পড়বে না

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই তেল সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে না। কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে অপরিশোধিত তেল ফেরত দেবে এবং অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও পরিশোধ করবে। এতে সরকারি রাজস্ব বাড়বে এবং করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলে দাবি প্রশাসনের।

বর্তমানে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার চারটি স্থাপনায় সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল ভান্ডারে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিশ্বে চার দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

US lends 53.3 million barrels from oil reserve amid Iran conflict By  Investing.com