০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে আবারও বাড়ল দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বাড়ে। আগের দিনও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত থামাতে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিজেদের তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর মতো বিষয় সামনে এনেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

LNG (Liquefied Natural Gas) - Commodities Hub

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পথে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

সরবরাহ কমার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কার্যকর সমঝোতা না হয়, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অস্থিরতার কারণে কিছু উৎপাদক দেশ রপ্তানি কমাতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন এপ্রিল মাসে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শান্তিচুক্তি হয় তাহলে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে উত্তেজনা আরও বাড়লে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১১৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

সৌদি আরবের সতর্কবার্তা

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মজুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রে

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির মজুত প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির চাপও বাড়ছে।

ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, 'চমক' এড়াতে চায় তাইপে

ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকেও নজর

বাজার বিশ্লেষকরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকেও নজর রাখছেন। কারণ ইরানের তেল চীনে পৌঁছাতে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে এই বৈঠক বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেলবাজারে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে আবারও বাড়ল দাম

১২:২১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বাড়ে। আগের দিনও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত থামাতে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিজেদের তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর মতো বিষয় সামনে এনেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

LNG (Liquefied Natural Gas) - Commodities Hub

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পথে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

সরবরাহ কমার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কার্যকর সমঝোতা না হয়, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অস্থিরতার কারণে কিছু উৎপাদক দেশ রপ্তানি কমাতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন এপ্রিল মাসে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শান্তিচুক্তি হয় তাহলে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে উত্তেজনা আরও বাড়লে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১১৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

সৌদি আরবের সতর্কবার্তা

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মজুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রে

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির মজুত প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির চাপও বাড়ছে।

ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, 'চমক' এড়াতে চায় তাইপে

ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকেও নজর

বাজার বিশ্লেষকরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকেও নজর রাখছেন। কারণ ইরানের তেল চীনে পৌঁছাতে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে এই বৈঠক বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেলবাজারে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।