পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে আরও গভীর হতে শুরু করেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের মধ্যে এবার ভারতীয়দের বিদেশি পণ্যের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গুজরাটের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সচেতন উদ্যোগও দেশের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
![Dólar à vista [chevron_left]brby[chevron_right] fecha em baixa de 0,59%, a r$5,3220 na venda | Reuters](https://www.reuters.com/resizer/v2/MHG23WQZTBOMNJQEQ63C3U42BA.jpg?auth=86d70463298b5736467ad6032cfa684ac4213d9ea1849272359f455e3ce2ce96&width=1920&quality=80)
বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান
নরেন্দ্র মোদি বলেন, দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে। এমন কর্মকাণ্ডও এড়িয়ে চলতে হবে, যেগুলোতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে জনগণের অংশগ্রহণ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে যুদ্ধ বা বড় সংকটের সময় দেশের মানুষ সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এবারও একইভাবে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহনের ওপর জোর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহন ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, ডিজেল ও পেট্রলের ব্যবহার কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত হতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভারতীয়দের জ্বালানি সাশ্রয় এবং খরচ কমানোর বার্তা দিয়ে আসছেন তিনি। এর আগে তিনি এক বছরের জন্য স্বর্ণ কেনা এড়িয়ে চলা, বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করা এবং সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শও দেন।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির পর পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট বর্তমান দশকের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
![]()
মোদির বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানালেও মোদির সাম্প্রতিক রোডশো ও রাজনৈতিক সফর নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একদিকে সাধারণ মানুষকে খরচ কমাতে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারপ্রধানের ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় বহর ও যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে তিনি একাধিক শহরে রোডশো করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাশ্রয়ের বার্তার সঙ্গে এসব কর্মসূচির সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে।
ভারতের অর্থনীতি ও বাজারে চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে ভারতসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও স্বর্ণ আমদানির ব্যয় বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















