মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে নতুন কৌশল নিচ্ছে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপার ট্যাংকার তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্র্যাকার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। এতে ইরানি হামলার আশঙ্কা এড়িয়ে নিরাপদে তেল পরিবহনের চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবুও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প ও গোপন কৌশল অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুই কোটি ব্যারেলের বেশি তেল বহন
তথ্য অনুযায়ী, ‘আগিওস ফানোরিওস-১’ এবং ‘কিয়ারা এম’ নামের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। প্রতিটি জাহাজে ছিল প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল।

এর মধ্যে ‘আগিওস ফানোরিওস-১’ ভিয়েতনামের নিঘি সন শোধনাগারে তেল খালাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। জাহাজটি গত এপ্রিল মাসে ইরাকের বাসরাহ এলাকা থেকে তেল বোঝাই করলেও এর আগে অন্তত দুইবার হরমুজ প্রণালি পার হতে ব্যর্থ হয়েছিল।
অন্যদিকে ‘কিয়ারা এম’ নামের জাহাজটিও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই উপসাগর ত্যাগ করে। এটি কোথায় তেল খালাস করবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আবুধাবির তেলও সরানো হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায়
এর আগে ‘বাসরাহ এনার্জি’ নামের আরেকটি সুপার ট্যাংকার আবুধাবির জিরকু টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ‘আপার জাকুম’ অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। পরে জাহাজটি ফুজাইরাহ টার্মিনালে তেল খালাস করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেল দ্রুত সরিয়ে নিতে এখন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজের অবস্থান প্রকাশ না করতেই ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই এলাকায় যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা হামলার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজগুলোর ট্র্যাকার বন্ধ রেখে চলাচল আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানি সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















