ইরান থেকে চীনে তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গোপনে তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে, যা অস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞায় কারা রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র তিনজন ব্যক্তি ও নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান হংকংভিত্তিক, চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এবং একটি ওমানভিত্তিক।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া কোম্পানি ও গোপন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ইরানের তেল চীনে পাঠাতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জন্য তারা পরিবহন, অর্থ লেনদেন এবং তেল বিক্রির ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ অস্ত্র উন্নয়ন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে তেহরানের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল করতে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এই রুট দিয়ে পরিচালিত হয়।
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে চীনের প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি তেল বাজারজাত করা হচ্ছে এবং এতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, সামনের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বড় আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।

গোপন নেটওয়ার্ক ভাঙতে পুরস্কার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের তেল বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনায় একাধিক শেল কোম্পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ লেনদেন করা হয়।
জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নতুন চাপ তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। চীন বর্তমানে ইরানের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও জটিল হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















