ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি দেখালেও এখন রাশিয়ার সামরিক অভিযান অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের লক্ষ্য সামনে রেখেও রুশ বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হতে পারছে না। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার পুরো পরিস্থিতিকে বদলে দিয়েছে। ফলে বড় ধরনের ট্যাংক বা সাঁজোয়া যান নিয়ে হামলার পুরনো কৌশল এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ হয়তো শেষের দিকে যাচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি এতটাই ধীর যে বর্তমান গতিতে পুরো ডনবাস দখল করতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া বড় আকারের সামরিক বহর নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রুশ বাহিনীর চলাচল কঠিন করে তুলেছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পায়ে হেঁটে ধীরে ধীরে অবস্থান নেওয়ার কৌশল নিতে বাধ্য হচ্ছে রুশ সেনারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন যুদ্ধের মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে কে বেশি উন্নত ড্রোন তৈরি করতে পারে এবং কার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি কার্যকর। কিছু অঞ্চলে ইউক্রেন প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। দ্রুত ড্রোন উৎপাদন ও নতুন কৌশল রাশিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার কৌশলে পরিবর্তন
ড্রোনের নজরদারির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে এখন “গ্রে জোন” নামে পরিচিত নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় স্পষ্টভাবে কোনো পক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। রুশ সেনারা ছোট দলে গোপনে ঢুকে ধীরে ধীরে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।
একজন সাবেক রুশ সেনা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে অনেক সময় আহত সেনাদের উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছে না। ড্রোনের মাধ্যমে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও চাপ
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাজনিত নানা সীমাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে নতুন সেনা নিয়োগ নিয়েও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের নতুন সেনা সমাবেশ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনও নিজস্ব সমস্যার মুখোমুখি। সেনা সংকট এবং যুদ্ধ ক্লান্তি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবুও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় তারা রাশিয়ার অগ্রযাত্রা অনেকাংশে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
নতুন হামলার আশঙ্কা
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া আবারও নতুন আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বসন্তের আবহাওয়া এবং গাছপালার আড়াল রুশ সেনাদের কিছুটা সুবিধা দিচ্ছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু স্থল যুদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি, ড্রোন এবং কৌশলগত অভিযোজনের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। আর সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাশিয়ার দ্রুত বিজয়ের সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার অগ্রযাত্রায় ধীরগতি, ড্রোন যুদ্ধে ইউক্রেনে নতুন সংকট ও কৌশলগত পরিবর্তনের বিশ্লেষণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















