১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
বিদেশে সক্রিয় আরএসএস, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঠেকাতে নতুন প্রচার অভিযান ভারতে সোনা-রুপার আমদানি শুল্ক বাড়লেও রুপির চাপ কাটছে না মোদির বিদেশ ভ্রমণ কমানোর আহ্বানে চাপে ভারতের পর্যটন খাত হাইলাইট: বন্যায় বন্দি হাওর বাড়ছে ক্ষতি বাড়ছে দুঃখ পাঠ্যবইয়ে বদল: সরকার আসে, পড়া বদলায় এভারেস্টে আবার মৃত্যু, মে মাসেই হিমালয়ে প্রাণ গেল পাঁচ আরোহীর স্যামসাংয়ে বেতন আলোচনা ভেঙে পড়ায় বড় ধর্মঘটের শঙ্কা চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের ভারতে সোনা-রুপার আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ, চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ, তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিশেষ চুক্তিতে ইরাক-পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে ইরাক ও পাকিস্তান আলাদাভাবে ইরানের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহনে এখন তেহরানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে।

ইরাকের জন্য জরুরি জ্বালানি রপ্তানি

Two Supertankers Reverse Course After Approaching Strait Of Hormuz As US- Iran Talks Fail

ইরাকের অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির বাজেটের বেশিরভাগ অর্থ আসে জ্বালানি খাত থেকে। তাই হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর বাগদাদ দ্রুত তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।

সেই আলোচনার ফল হিসেবে ইরাকের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। এখন আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই সমঝোতাকে সহজ করেছে। কারণ ইরাকের অর্থনৈতিক সংকট ইরানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তানের জন্য গ্যাস সরবরাহ

অন্যদিকে পাকিস্তানও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তির আওতায় কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী দুটি জাহাজ পাকিস্তানের পথে রয়েছে।

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পাকিস্তানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ১০টি গ্যাসবাহী চালান পেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর | কালবেলা

হরমুজে ইরানের বাড়তি প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন আর শুধু প্রণালি বন্ধের হুমকি দিচ্ছে না, বরং নিয়ন্ত্রিত করিডর হিসেবে এটি পরিচালনার দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে যে কোনো দেশকে জ্বালানি পরিবহনের জন্য তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।

যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের মূল্যও দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি আরও দেশ ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তিতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সহজ হতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তারিত নথি জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছে। কোন জাহাজ কোথায় যাচ্ছে, মালিকানা কী, কী ধরনের পণ্য বহন করছে—এসব তথ্য আগেভাগেই জানাতে হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Iraq, Pakistan strike energy deals with Iran as Tehran flexes Hormuz control

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে সক্রিয় আরএসএস, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঠেকাতে নতুন প্রচার অভিযান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ, তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিশেষ চুক্তিতে ইরাক-পাকিস্তান

১০:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে ইরাক ও পাকিস্তান আলাদাভাবে ইরানের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহনে এখন তেহরানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে।

ইরাকের জন্য জরুরি জ্বালানি রপ্তানি

Two Supertankers Reverse Course After Approaching Strait Of Hormuz As US- Iran Talks Fail

ইরাকের অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির বাজেটের বেশিরভাগ অর্থ আসে জ্বালানি খাত থেকে। তাই হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর বাগদাদ দ্রুত তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।

সেই আলোচনার ফল হিসেবে ইরাকের দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। এখন আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই সমঝোতাকে সহজ করেছে। কারণ ইরাকের অর্থনৈতিক সংকট ইরানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তানের জন্য গ্যাস সরবরাহ

অন্যদিকে পাকিস্তানও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তির আওতায় কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী দুটি জাহাজ পাকিস্তানের পথে রয়েছে।

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পাকিস্তানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ১০টি গ্যাসবাহী চালান পেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর | কালবেলা

হরমুজে ইরানের বাড়তি প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন আর শুধু প্রণালি বন্ধের হুমকি দিচ্ছে না, বরং নিয়ন্ত্রিত করিডর হিসেবে এটি পরিচালনার দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে যে কোনো দেশকে জ্বালানি পরিবহনের জন্য তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।

যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের মূল্যও দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি আরও দেশ ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তিতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সহজ হতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তারিত নথি জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছে। কোন জাহাজ কোথায় যাচ্ছে, মালিকানা কী, কী ধরনের পণ্য বহন করছে—এসব তথ্য আগেভাগেই জানাতে হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Iraq, Pakistan strike energy deals with Iran as Tehran flexes Hormuz control