বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মুখোমুখি আলোচনা করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। এই বৈঠককে আগামী বেইজিং শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুই প্রতিনিধি দলই আলাদাভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ইনচন বিমানবন্দরেই তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসেন।
বেইজিং বৈঠকের আগে অবস্থান যাচাই
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। বরং দুই পক্ষই একে অপরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছে। কারণ চলতি সপ্তাহেই বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
![]()
এই শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাত নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিমান, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে চীনের সম্ভাব্য কেনাকাটার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
চিপ ও প্রযুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন
চীন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চীনে গুরুত্বপূর্ণ চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি সরবরাহ সীমিত করার মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেইজিং।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন এখনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা শিথিল করার ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা এতটাই গভীর যে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম।
বিরল খনিজ নিয়েও আলোচনা
দুই দেশের আলোচনায় বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা ও উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত এসব খনিজের রপ্তানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে।
শীর্ষ সম্মেলনে এই বিষয়ে সাময়িক সমঝোতা বাড়ানোর আলোচনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, চীন এখনো এসব খনিজের রপ্তানি সীমিত রাখছে।

ইরান প্রসঙ্গেও নজর
চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আলোচনায় আসতে পারে।
ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং চীন দেশটির বড় তেল ক্রেতাদের একটি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনে চীনের সহায়তা প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
সমঝোতার সম্ভাবনা কতটা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এখনো কোনো পক্ষই বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে চীনও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় তাড়াহুড়ো করে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়।
তাই বেইজিং শীর্ষ বৈঠক থেকে বড় অগ্রগতির বদলে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরির দিকেই বেশি গুরুত্ব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















