যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে তাইওয়ানকে ঘিরে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে বলেছে, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে চীন দাবি করেছে, তাইওয়ান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এই সপ্তাহেই বেইজিংয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দিনের এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে

চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ঝ্যাং হান বলেছেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা বা অস্ত্র বিক্রি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। যদিও তাইওয়ানে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরছে।
অস্ত্র বিক্রি নিয়ে নতুন চাপ
গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করে যুক্তরাষ্ট্র। এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্যাকেজগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি বড় অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে সম্প্রতি তাইওয়ানের পার্লামেন্ট সরকারপ্রধান লাই চিং-তের চাওয়া বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেটের পুরোটা অনুমোদন দেয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ পাস হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার অর্থ রাখা হলেও স্থানীয় ড্রোন ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে কাটছাঁট করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে চীন কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তাইওয়ানের নিরাপত্তা মহল। তাদের মতে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে যে তাইওয়ানের জনগণই বড় পরিসরে অস্ত্র কেনার পক্ষে নয়।
স্বাধীনতার প্রশ্নে কঠোর হুঁশিয়ারি
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেন, তাইওয়ান একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এর জবাবে চীনের পক্ষ থেকে আরও কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। ঝ্যাং হান বলেন, তাইওয়ান কখনোই আলাদা রাষ্ট্র ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি জানান, তাইওয়ানের স্বাধীনতাবাদী যেকোনো প্রচেষ্টা দমন করার সক্ষমতা চীনের রয়েছে।
চীন বরাবরই বলে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ পুনঃএকত্রীকরণ চায়। তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও তারা পুরোপুরি বাদ দেয়নি।

মার্কিন-চীন সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যু সবচেয়ে স্পর্শকাতর আলোচনায় পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















