ভারতের রুপির ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতে সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির চাপ রুপির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে।
বুধবার লেনদেন শুরুর আগে মুদ্রাবাজারে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় রুপি সামান্য শক্তিশালী অবস্থানে খুলতে পারে। আগের দিনের লেনদেনে রুপির মান ছিল ডলারের বিপরীতে ৯৫ দশমিক ৬২৭৫। নতুন দিনে তা কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোনা-রুপার শুল্ক বাড়ানোর কারণ
ভারত সরকার সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবান ধাতুর আমদানি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস করা।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ফলে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনা আমদানি কমাতে পারলে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমবে এবং রুপির ওপর চাপও আংশিকভাবে হালকা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ ভারত। তাই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোদির আহ্বান ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদির বক্তব্যের পর থেকেই বাজারে ধারণা ছিল, সরকার রুপিকে সহায়তা দিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। সেই প্রত্যাশার অংশ হিসেবেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ ও মুদ্রা ব্যবসায়ী।
তবে অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব খুব বড় হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এখনও অনেক বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। ফলে রুপির ওপর বহুমুখী চাপ থেকেই যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নতুন চাপ তৈরি করছে
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির হার তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিগগির সুদহার কমাবে না। ফলে মার্কিন বন্ডের আয় বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে ডলারের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

এর প্রভাব উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর ওপর পড়ছে, যার মধ্যে ভারতীয় রুপিও রয়েছে।
তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এখনও বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে এবং রুপির ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। ফলে শুধুমাত্র সোনা-রুপার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

























