বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টে আবারও এক আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নেপালের হিমালয় অঞ্চলে অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহী ও গাইডের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবুও ঝুঁকি আর আন্তর্জাতিক অস্থিরতা উপেক্ষা করে এভারেস্টমুখী অভিযাত্রীর সংখ্যা বাড়ছেই।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার মারা গেছেন ২১ বছর বয়সী নেপালি শেরপা গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা। এভারেস্টের তৃতীয় ক্যাম্পের কাছে তুষারের ওপর দিয়ে চলার সময় তিনি পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে যান। ওই ক্যাম্পটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ২০০ মিটার।
মে মাসে এটিই এভারেস্টে তৃতীয় মৃত্যু। একই সময়ে হিমালয়ের অন্যান্য পর্বত এলাকায় আরও দুই আরোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
অভিযান থামছে না

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটনে কিছুটা প্রভাব পড়লেও এভারেস্টের আকর্ষণ কমেনি। নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এবারও বিপুলসংখ্যক অভিযাত্রী এভারেস্টে উঠতে নেপালে এসেছেন।
নেপাল সরকার চলতি মৌসুমে এভারেস্ট আরোহণের জন্য ৪৯২টি অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি অনুমতির জন্য গুনতে হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ডলার। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনুমতির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দড়ি স্থাপন ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই আরোহীরা শীর্ষ জয়ের মূল অভিযান শুরু করবেন।
বরফধসে বিলম্ব
এপ্রিল মাসে এভারেস্টের পথে বিশাল বরফখণ্ড ধসে পড়ায় শীর্ষে ওঠার রুট খুলতে প্রায় দুই সপ্তাহ দেরি হয়। এতে বেস ক্যাম্পে শত শত আরোহী আটকে পড়েছিলেন। পরে অভিজ্ঞ শেরপা দল ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিষ্কার করে নতুন রুট তৈরির কাজ শুরু করে।

এভারেস্ট ছাড়াও মৃত্যু
এ মৌসুমে এভারেস্টের বাইরে আরও দুটি বড় দুর্ঘটনার খবর এসেছে। বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বত মাকালুতে এক মার্কিন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। একই অঞ্চলের মাকালু-টু পর্বতে প্রাণ হারিয়েছেন এক চেক আরোহী।
এর আগে খুম্বু আইসফলে অনুশীলনের সময় আরেক নেপালি আরোহীর মৃত্যু হয়। এছাড়া বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পথেও মারা যান এক শেরপা গাইড।
পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল নেপালের অর্থনীতিতে পর্বতারোহণ বড় আয়ের উৎস। তাই ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতি বছর হাজারো আরোহী দেশটিতে ভিড় করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















