সিঙ্গাপুরে পরিবার ছোট হয়ে আসছে। সন্তান সংখ্যা কমছে, আর সেই বাস্তবতায় শিশুদের ঘিরে আরও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ‘ফ্যামিলিজ ফর লাইফ’ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিথ ম্যাগনাস। তাঁর মতে, শুধু বাবা-মা নয়, দাদা-দাদি, খালা-ফুপু কিংবা চাচা-মামাদেরও পরিবারের সক্রিয় অংশ হিসেবে ভাবতে হবে।
তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে পরিবারকে শুধু নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখলে সমাজে স্বার্থপরতা বাড়তে পারে। তাই শক্তিশালী পরিবারগুলোর উচিত অন্য পরিবারগুলোকেও সহায়তা করা, যাতে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সন্তান জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ
সিঙ্গাপুরে ২০২৫ সালে মোট প্রজনন হার নেমে দাঁড়ায় রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৮৭-এ। এই পরিস্থিতিকে “অস্তিত্বের সংকট” হিসেবে দেখছেন কিথ ম্যাগনাস। তাঁর মতে, শুধু সরকারি নীতি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

এই লক্ষ্যেই পরিবার ও অভিভাবকত্বের আনন্দকে সামনে আনার চেষ্টা করছে ‘ফ্যামিলিজ ফর লাইফ’। সংগঠনটির বিশ্বাস, সন্তান লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর ভেতরে রয়েছে গভীর ভালোবাসা ও মানসিক তৃপ্তি।
কিথ ম্যাগনাস বলেন, একজন মানুষ যখন বাবা বা মা হন, তখন জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। তবে সন্তান মানুষ করার মধ্যে এমন এক আনন্দ রয়েছে, যা অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
সম্পর্ক গড়ার ওপর জোর
তিনি মনে করেন, ভালো স্বামী, স্ত্রী বা বাবা-মা হওয়ার জন্য কোনো আইন তৈরি করা সম্ভব নয়। এগুলো আসে পারিবারিক মূল্যবোধ ও আচরণের মাধ্যমে।
তাই ‘ফ্যামিলিজ ফর লাইফ’ পরিবারকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে। সংগঠনটি চায়, পরিবারগুলো নিজেদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও সমাজের প্রতিও দায়িত্বশীল হোক।
কিথ ম্যাগনাসের ভাষায়, “নিজের পরিবারকে শক্তিশালী করার পর প্রশ্ন হওয়া উচিত, আপনি কীভাবে পাশের পরিবারকে সাহায্য করতে পারেন, কীভাবে সমাজকে আরও ভালো করতে পারেন।”
পারিবারিক উৎসবের আয়োজন
আগামী ৩০ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পারিবারিক উৎসব। এবারের প্রতিপাদ্য ‘পরিবার আমার থেকেই শুরু’।
এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবারে সময় দেওয়া, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং পারস্পরিক উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে পরিবারবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দেওয়া হবে।
উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন হবে একটি বড় পারিবারিক কার্নিভাল, যেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য থাকবে নানা কার্যক্রম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















