যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং দিনের লেনদেন শেষে প্রধান সূচক কিছুটা নিচেই নেমে গেছে।
বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক স্ট্রেইটস টাইমস ইনডেক্স বা এসটিআই ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৯৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। দিন শেষে সূচকটি হারায় ৮ দশমিক ০২ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শির বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। ফলে বাজারে সতর্ক অবস্থানই বেশি দেখা গেছে।
লেনদেনে বিক্রির চাপ বেশি

দিনজুড়ে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ বেশি ছিল। মোট ২ দশমিক ২ বিলিয়ন শেয়ার হাতবদল হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এ সময় ৩৫৯টি কোম্পানির শেয়ার দর কমে যায়, বিপরীতে বেড়েছে ২৫৭টির।
ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে সিঙ্গটেল। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৮৭ ডলারে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ফ্রেজার্স লজিস্টিকস অ্যান্ড কমার্শিয়াল ট্রাস্টের শেয়ারে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৯৪ সেন্টে নেমে আসে।
ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
স্থানীয় ব্যাংক খাতে অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিবিএস ব্যাংকের শেয়ার ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে। ওসিবিসির শেয়ার বেড়েছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ইউওবির শেয়ার বেড়েছে ০ দশমিক ১ শতাংশ।
আইএজ সিঙ্গাপুর নেক্সট ৫০ সূচকে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে প্যান-ইউনাইটেড করপোরেশন। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে কমফোর্টডেলগ্রোর শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে যায়।
এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র
এদিন এশিয়ার অন্যান্য প্রধান শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ কমেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। মালয়েশিয়ার কেএলসিআই সূচক সামান্য কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখনো অনিশ্চয়তার বড় উৎস হয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার বাস্তবতা থেকে কেউ পুরোপুরি সরে আসতে পারছে না। এই কারণেই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















