যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের সিনেট প্রাইমারিতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন দুই মেয়াদের সিনেটর বিল ক্যাসিডি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা এবং অভিশংসন বিচারে তার অবস্থানের জের ধরে শেষ পর্যন্ত নিজ দলের ভোটারদের সমর্থন হারিয়ে নির্বাচনী লড়াই থেকেই ছিটকে পড়েছেন তিনি।
শনিবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ভোটে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী জুলিয়া লেটলো এগিয়ে থেকে রানঅফে জায়গা করে নেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অঙ্গরাজ্যের কোষাধ্যক্ষ জন ফ্লেমিং। অন্যদিকে বিল ক্যাসিডি তৃতীয় স্থানে থেকে বিদায় নেন।
ট্রাম্পের সমর্থনেই বদলে গেল সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু একটি প্রাইমারির পরাজয় নয়; বরং রিপাবলিকান দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কতটা শক্তিশালী, সেটিরই আরেকটি উদাহরণ। জুলিয়া লেটলো নির্বাচনে নাম ঘোষণার আগেই ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে যান। পরে প্রচারণায় তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
ভোট গণনায় দেখা যায়, লেটলো উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। রানঅফে জয়ী প্রার্থী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি ডেভিসের মুখোমুখি হবেন। তবে রিপাবলিকান-প্রধান এই অঙ্গরাজ্যে চূড়ান্ত বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রিপাবলিকান প্রার্থীরই।

অভিশংসন ভোটই কাল হলো
বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের দূরত্ব তৈরি হয় ২০২১ সালে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ক্যাসিডি। রিপাবলিকান দলের অল্প কয়েকজন সিনেটরের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ট্রাম্পপন্থিদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্যও করেন ক্যাসিডি। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। এসব অবস্থান রিপাবলিকান ভোটারদের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
বিদায়ী বক্তব্যে যা বললেন ক্যাসিডি
পরাজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বিল ক্যাসিডি বলেন, গণতন্ত্রে অংশ নিলে সব সময় নিজের পক্ষে ফল নাও আসতে পারে। তবে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেই হয়। তিনি গত ১২ বছর সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জুলিয়া লেটলোকে অভিনন্দন জানান এবং ক্যাসিডির পরাজয়কে তার ‘অবিশ্বস্ততার ফল’ বলে মন্তব্য করেন।
রিপাবলিকান দলে বাড়ছে চাপ
সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পবিরোধী রাজনীতিকদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রাইমারি চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। লুইজিয়ানার এই ফলাফল সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















