১১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
আগামী দিনের চাকরির বাজারে স্থায়ী চাকরির বদলে বাড়ছে অস্থায়ী কাজ, বদলে যাচ্ছে কর্মজগতের চিত্র বিলাসী গদি থেকে চিকিৎসা প্রযুক্তি: ধনকুবেরদের প্রিয় তিন লাখ টাকার ঘুমের যন্ত্র এবার সারাবে নিদ্রাজনিত শ্বাসকষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এজেন্ট আপনার টাকা খরচ করলে, আপনি অনুমতি দিয়েছিলেন কি না প্রমাণ করবে কে? মতের অমিল নয়, ‘ভুল’ মনে করাই মানুষকে বেশি ক্ষুব্ধ করে উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার রেকর্ড ভাঙল চীনা রোবট, এরপরই দেয়ালে ধাক্কা নিউইয়র্কে গুলিতে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী নিহত, আহত আরও একজন এক্স-রে দৃষ্টির নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ক্যামেরায় এবার দ্রুতগতির বস্তুর ‘ভেতর দেখা’ ভিডিও চীনের বিরুদ্ধে ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায় ভুল হিসাবের আশঙ্কা হুন্দাইয়ের শক্তিতে স্টার্টআপের গতিতে এগোচ্ছে জেনেসিস একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র

১৬ বছর পর পাওয়া ছেলে সন্তানকে হাম থেকে বাঁচাতে পারলো না

দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া একমাত্র ছেলে সন্তান সাজিদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি পরিবারে। হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য একের পর এক সাতটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি সাত মাস বয়সী শিশুটিকে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সিংরাইশ গ্রামের পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির তিন মেয়ে রয়েছে। বহু প্রতীক্ষার পর সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান সাজিদ আল নাহিয়ান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শিশুটিকে ঘিরে তাদের আনন্দ ছিল সীমাহীন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সাজিদ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। তখন চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।

অবস্থার অবনতি ও এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে চলা

গত ১২ মে সাজিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা চলার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকেও ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় শিশুটিকে।

পর্যায়ক্রমে তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে নেওয়া হয়। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হামে এবং হামের লক্ষণ নিয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু - দৈনিক সংগ্রাম

বাবার কান্না ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

সাজিদের বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন বলেন, তিন মেয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করে ছেলে সন্তান পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকার সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি।

তার অভিযোগ, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছিল—এটি শনাক্ত করতেই অনেক সময় লেগে গেছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণেই শেষ পর্যন্ত সন্তানকে হারাতে হয়েছে। এখন গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে সাজিদকে দাফন করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে সাজিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু আক্রান্তের খবর বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী দিনের চাকরির বাজারে স্থায়ী চাকরির বদলে বাড়ছে অস্থায়ী কাজ, বদলে যাচ্ছে কর্মজগতের চিত্র

১৬ বছর পর পাওয়া ছেলে সন্তানকে হাম থেকে বাঁচাতে পারলো না

০৭:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া একমাত্র ছেলে সন্তান সাজিদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি পরিবারে। হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য একের পর এক সাতটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি সাত মাস বয়সী শিশুটিকে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সিংরাইশ গ্রামের পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির তিন মেয়ে রয়েছে। বহু প্রতীক্ষার পর সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান সাজিদ আল নাহিয়ান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শিশুটিকে ঘিরে তাদের আনন্দ ছিল সীমাহীন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সাজিদ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। তখন চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।

অবস্থার অবনতি ও এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে চলা

গত ১২ মে সাজিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা চলার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকেও ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় শিশুটিকে।

পর্যায়ক্রমে তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে নেওয়া হয়। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হামে এবং হামের লক্ষণ নিয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু - দৈনিক সংগ্রাম

বাবার কান্না ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

সাজিদের বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন বলেন, তিন মেয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করে ছেলে সন্তান পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকার সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি।

তার অভিযোগ, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছিল—এটি শনাক্ত করতেই অনেক সময় লেগে গেছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণেই শেষ পর্যন্ত সন্তানকে হারাতে হয়েছে। এখন গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে সাজিদকে দাফন করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে সাজিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু আক্রান্তের খবর বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।