০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
আমেরিকার জনসংখ্যাগত স্থবিরতা: ধনী রাষ্ট্রের ভেতরে জমতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট শীতল যুদ্ধ থেকে ওয়াটারগেট: বদলে যাওয়া আমেরিকার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, ট্রাম্পকে নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য চুকালেন ক্যাসিডি, লুইজিয়ানার প্রাইমারিতে বড় ধাক্কা জেফ্রি এপস্টেইন রহস্য: ক্ষমতা, অর্থ আর যৌন অপরাধের জাল ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য দিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি ইতিহাসের নীরবতা, উত্তরাধিকার আর তরুণ লেখকের সাহস অভিনেত্রীদের স্বপ্ন আর মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প নিয়েই এগোতে চান অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি জাপানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি তামিলনাড়ুতে বিজয়ের উত্থান, নতুন করে আলোচনায় শ্রীলঙ্কার জাতিগত রাজনীতি

আমেরিকার জনসংখ্যাগত স্থবিরতা: ধনী রাষ্ট্রের ভেতরে জমতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে যে কয়েকটি মৌলিক উপাদান কাজ করেছে, তার একটি ছিল ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনসংখ্যা। প্রযুক্তি, পুঁজি কিংবা উদ্ভাবনের পাশাপাশি শ্রমবাজারের ধারাবাহিক বিস্তার দেশটিকে শুধু উৎপাদনে নয়, বৈশ্বিক প্রভাবেও এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু এখন সেই ভিত্তির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নীরবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে আসছে, অভিবাসন হ্রাস পাচ্ছে, আর শ্রমবাজারে নতুন মানুষের প্রবেশ প্রায় থমকে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সাময়িক নয়; বরং এটি এমন এক কাঠামোগত রূপান্তর, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে আমেরিকার অর্থনীতিকে বহন করতে হবে।

অনেক সময় অর্থনৈতিক আলোচনায় মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার কিংবা শেয়ারবাজারের ওঠানামা বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি অর্থনীতির সক্ষমতা নির্ভর করে কত মানুষ কাজ করছে এবং কত দ্রুত সেই কর্মশক্তি বাড়ছে তার ওপর। এই বাস্তবতাই এখন আমেরিকার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষকরাও বলছেন, সম্ভাব্য শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের দিকে যাচ্ছে—যা গত কয়েক দশকের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমস্যাটি কেবল জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে তৈরি হয়নি। বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আর রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই তরুণ অভিবাসীদের মাধ্যমে তার শ্রমবাজারকে সচল রেখেছিল। কৃষি থেকে প্রযুক্তি খাত—সবখানেই বিদেশি শ্রম ও মেধা ছিল গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এখন সেই প্রবাহ কমে যাওয়ায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি কার্যত থেমে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য। বেবি বুমার প্রজন্ম ধীরে ধীরে অবসরে যাচ্ছে, অথচ তাদের জায়গা পূরণের মতো তরুণ কর্মী পর্যাপ্ত হারে আসছে না। ফলে শ্রমবাজার শুধু ছোটই হচ্ছে না, একই সঙ্গে বয়স্কও হয়ে উঠছে। এর অর্থ হলো, নতুন প্রযুক্তি বা কাজের ধরনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অটোমেশনের যুগে এই রূপান্তর আরও কঠিন হতে পারে।

America's demography is looking European

অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে। তাত্ত্বিকভাবে সেটি সম্ভব। যদি কম সংখ্যক কর্মী আগের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত এআইয়ের সুফল সীমিত ও অসম। কয়েকটি খাত ছাড়া বিস্তৃত অর্থনীতিতে এর নাটকীয় প্রভাব এখনও দেখা যায়নি। ফলে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে জনসংখ্যাগত সংকট সামাল দেওয়ার আশা অতিরিক্ত আশাবাদী হিসেবেই মনে হয়।

এই সংকটের আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির আকার ধীরে বাড়লে সরকারের ব্যয় কিন্তু একইভাবে কমে না। প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাতগুলোর খরচ স্থির থাকে, অনেক ক্ষেত্রে আরও বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়লে পেনশন ও স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে যদি কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম মানুষের কাঁধে এসে পড়ে।

আমেরিকার বিপুল সরকারি ঋণের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি তরুণ ও সম্প্রসারিত শ্রমবাজার সহজে ঋণের চাপ বহন করতে পারে, কারণ ভবিষ্যতের আয় ও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু শ্রমশক্তি স্থবির হয়ে গেলে সেই সক্ষমতাও দুর্বল হয়। অর্থাৎ অর্থনীতি ছোট গতিতে বাড়বে, অথচ ব্যয়ের চাপ ও ঋণের বোঝা থেকে যাবে। এর ফল দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের আর্থিক অবদান নতুনভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রায়ই নিরাপত্তা বা সাংস্কৃতিক প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনেক বেশি সরল। তরুণ অভিবাসীরা সাধারণত কাজ করে, কর দেয় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ থাকে। তারা শুধু শ্রমঘাটতি পূরণ করে না, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ভারও বহন করতে সহায়তা করে। ফলে অভিবাসনকে কেবল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখলে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতা আড়াল হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করা সহজ, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত কর্মশক্তি, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জনসংখ্যাগত স্থবিরতা যদি ইচ্ছাকৃত নীতির মাধ্যমে আরও গভীর করা হয়, তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির সম্ভাবনাকেই সংকুচিত করবে।

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনীতির অন্যতম শক্তি ছিল তার উন্মুক্ততা—মানুষ, শ্রম ও প্রতিভার প্রতি উন্মুক্ততা। এখন যদি সেই দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমেরিকার সামনে শুধু জনসংখ্যাগত নয়, অর্থনৈতিক স্থবিরতার ঝুঁকিও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার জনসংখ্যাগত স্থবিরতা: ধনী রাষ্ট্রের ভেতরে জমতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট

আমেরিকার জনসংখ্যাগত স্থবিরতা: ধনী রাষ্ট্রের ভেতরে জমতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট

০৮:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে যে কয়েকটি মৌলিক উপাদান কাজ করেছে, তার একটি ছিল ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনসংখ্যা। প্রযুক্তি, পুঁজি কিংবা উদ্ভাবনের পাশাপাশি শ্রমবাজারের ধারাবাহিক বিস্তার দেশটিকে শুধু উৎপাদনে নয়, বৈশ্বিক প্রভাবেও এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু এখন সেই ভিত্তির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নীরবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে আসছে, অভিবাসন হ্রাস পাচ্ছে, আর শ্রমবাজারে নতুন মানুষের প্রবেশ প্রায় থমকে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সাময়িক নয়; বরং এটি এমন এক কাঠামোগত রূপান্তর, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে আমেরিকার অর্থনীতিকে বহন করতে হবে।

অনেক সময় অর্থনৈতিক আলোচনায় মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার কিংবা শেয়ারবাজারের ওঠানামা বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি অর্থনীতির সক্ষমতা নির্ভর করে কত মানুষ কাজ করছে এবং কত দ্রুত সেই কর্মশক্তি বাড়ছে তার ওপর। এই বাস্তবতাই এখন আমেরিকার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষকরাও বলছেন, সম্ভাব্য শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের দিকে যাচ্ছে—যা গত কয়েক দশকের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমস্যাটি কেবল জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে তৈরি হয়নি। বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আর রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই তরুণ অভিবাসীদের মাধ্যমে তার শ্রমবাজারকে সচল রেখেছিল। কৃষি থেকে প্রযুক্তি খাত—সবখানেই বিদেশি শ্রম ও মেধা ছিল গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এখন সেই প্রবাহ কমে যাওয়ায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি কার্যত থেমে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য। বেবি বুমার প্রজন্ম ধীরে ধীরে অবসরে যাচ্ছে, অথচ তাদের জায়গা পূরণের মতো তরুণ কর্মী পর্যাপ্ত হারে আসছে না। ফলে শ্রমবাজার শুধু ছোটই হচ্ছে না, একই সঙ্গে বয়স্কও হয়ে উঠছে। এর অর্থ হলো, নতুন প্রযুক্তি বা কাজের ধরনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অটোমেশনের যুগে এই রূপান্তর আরও কঠিন হতে পারে।

America's demography is looking European

অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে। তাত্ত্বিকভাবে সেটি সম্ভব। যদি কম সংখ্যক কর্মী আগের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত এআইয়ের সুফল সীমিত ও অসম। কয়েকটি খাত ছাড়া বিস্তৃত অর্থনীতিতে এর নাটকীয় প্রভাব এখনও দেখা যায়নি। ফলে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে জনসংখ্যাগত সংকট সামাল দেওয়ার আশা অতিরিক্ত আশাবাদী হিসেবেই মনে হয়।

এই সংকটের আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির আকার ধীরে বাড়লে সরকারের ব্যয় কিন্তু একইভাবে কমে না। প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাতগুলোর খরচ স্থির থাকে, অনেক ক্ষেত্রে আরও বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়লে পেনশন ও স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে যদি কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম মানুষের কাঁধে এসে পড়ে।

আমেরিকার বিপুল সরকারি ঋণের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি তরুণ ও সম্প্রসারিত শ্রমবাজার সহজে ঋণের চাপ বহন করতে পারে, কারণ ভবিষ্যতের আয় ও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু শ্রমশক্তি স্থবির হয়ে গেলে সেই সক্ষমতাও দুর্বল হয়। অর্থাৎ অর্থনীতি ছোট গতিতে বাড়বে, অথচ ব্যয়ের চাপ ও ঋণের বোঝা থেকে যাবে। এর ফল দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের আর্থিক অবদান নতুনভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রায়ই নিরাপত্তা বা সাংস্কৃতিক প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনেক বেশি সরল। তরুণ অভিবাসীরা সাধারণত কাজ করে, কর দেয় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ থাকে। তারা শুধু শ্রমঘাটতি পূরণ করে না, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ভারও বহন করতে সহায়তা করে। ফলে অভিবাসনকে কেবল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখলে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতা আড়াল হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করা সহজ, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত কর্মশক্তি, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জনসংখ্যাগত স্থবিরতা যদি ইচ্ছাকৃত নীতির মাধ্যমে আরও গভীর করা হয়, তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির সম্ভাবনাকেই সংকুচিত করবে।

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনীতির অন্যতম শক্তি ছিল তার উন্মুক্ততা—মানুষ, শ্রম ও প্রতিভার প্রতি উন্মুক্ততা। এখন যদি সেই দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমেরিকার সামনে শুধু জনসংখ্যাগত নয়, অর্থনৈতিক স্থবিরতার ঝুঁকিও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।