১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
জি৭ বৈঠকে বাণিজ্য উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়ল ভবন, হাজারো মানুষের সরিয়ে নেওয়া চীনের অর্থনীতিতে ধাক্কা, কমেছে উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয় চীনের মেমোরি চিপ বাজারে বিস্ফোরণ, আয়ের বড় লাফের আশা সিএক্সএমটির ইতিহাস গড়লেন অ্যারন রাই, ১০৭ বছর পর পিজিএ চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের জয় পূর্ব জেরুজালেমে সাবেক জাতিসংঘ কার্যালয়ে প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স গড়ছে ইসরায়েল তেলবাজারে নতুন উত্তেজনা, আমিরাতের পারমাণবিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ রঘু রাই: ক্যামেরায় ধরা ভারতের আত্মা এআই যুদ্ধকে বদলে দিচ্ছে: ‘ম্যাভেন’ এখন লক্ষ্য চিহ্নিত করেই থেমে নেই, জানাচ্ছে কীভাবে হামলা চালাতে হবে

নিয়ানডারথালরাও দাঁতের চিকিৎসা করত, ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো আবিষ্কারে বদলে যাচ্ছে ইতিহাস

দীর্ঘদিন ধরে “নিয়ানডারথাল” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বর্বর ও অদক্ষ মানুষের প্রতীক হিসেবে। কিন্তু নতুন নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। এবার রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি গুহা থেকে পাওয়া ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো দাঁত জানাচ্ছে, নিয়ানডারথালরা শুধু বেঁচে থাকার লড়াইই করত না, তারা দাঁতের চিকিৎসাও জানত।

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আধুনিক মানুষের বহু হাজার বছর আগেই নিয়ানডারথালরা দাঁতের সংক্রমণ দূর করতে দাঁতে ছিদ্র করত। গবেষকদের মতে, এটি মানব ইতিহাসে সবচেয়ে পুরোনো দাঁতের চিকিৎসার প্রমাণগুলোর একটি।

আলতাই পর্বতের গুহায় মিলল প্রমাণ

রাশিয়ার আলতাই পর্বতমালার চাগিরস্কায়া গুহা থেকে ২০১৬ সালে একটি পুরোনো দাঁত উদ্ধার করা হয়। এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ানডারথালের দাঁত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দাঁতটি বহু বছর শক্ত ও খসখসে খাবার চিবানোর কারণে ক্ষয়ে গিয়েছিল।

গবেষকরা প্রথমে ভেবেছিলেন, দাঁতের মাঝখানের বড় গর্তটি স্বাভাবিক সংক্রমণের ফল। কিন্তু পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায়, গর্তের ভেতরে ঘূর্ণায়মান ধারালো যন্ত্রের তৈরি সূক্ষ্ম দাগ রয়েছে।

Siberian cave findings shed light on enigmatic extinct human species |  Reuters

সেখান থেকেই গবেষকদের সন্দেহ হয়, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁতের ভেতরের সংক্রমিত অংশ সরানোর চেষ্টা করেছিল।

পাথরের যন্ত্র দিয়েই করা হয়েছিল চিকিৎসা

গবেষণায় দেখা যায়, ওই গুহায় আগে জ্যাসপার নামের এক ধরনের শক্ত পাথরের ছোট ধারালো যন্ত্র পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকরা একই ধরনের যন্ত্র তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে দাঁতে ঘষে দেখেন।

তারা দেখতে পান, ঘূর্ণায়মানভাবে পাথরের যন্ত্র ব্যবহার করলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে দাঁতে একই ধরনের দাগ তৈরি করা সম্ভব। সেই দাগের সঙ্গে প্রাচীন দাঁতের দাগের মিলও পাওয়া যায়।

গবেষকদের মতে, এটিই প্রমাণ করে নিয়ানডারথালরা দাঁতের ভেতরের ক্ষত বা সংক্রমণ পরিষ্কার করার মতো জটিল কাজ করতে পারত।

চিকিৎসার পরও বেঁচে ছিল রোগী

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দাঁতের গর্তের চারপাশে পরবর্তী সময়ে খাবার চিবানোর ক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ চিকিৎসার পর ওই ব্যক্তি আরও দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতেন।

Between Denisovans and Neanderthals: Strashnaya Cave in the Altai Mountains  | Antiquity | Cambridge Core

দাঁতের পাশে আরও কিছু দাগ পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে নিয়ানডারথালরা দাঁতের ফাঁকে সরু কিছু ঢুকিয়ে মাড়ির অস্বস্তি কমানোর চেষ্টাও করত।

গবেষকদের মতে, এটি শুধু চিকিৎসা নয়, বরং ব্যথা সহ্য করে ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়ানোর মতো চিন্তাশক্তিরও প্রমাণ।

মানব ইতিহাস নিয়ে নতুন ভাবনা

এই আবিষ্কার নিয়ানডারথালদের নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে বড়ভাবে চ্যালেঞ্জ করছে। এতদিন মনে করা হতো, আধুনিক মানুষের মতো জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না। কিন্তু এই দাঁতের চিকিৎসার প্রমাণ বলছে, তারা কারণ–পরিণতি বুঝতে পারত এবং পরিকল্পনা করে কাজ করত।

গবেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখায় নিয়ানডারথালদের হাতের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ছিল এবং তারা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও বুঝত।

মানব বিবর্তন নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে প্রাচীন মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক আচরণ আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ছিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জি৭ বৈঠকে বাণিজ্য উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ

নিয়ানডারথালরাও দাঁতের চিকিৎসা করত, ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো আবিষ্কারে বদলে যাচ্ছে ইতিহাস

১১:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে “নিয়ানডারথাল” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বর্বর ও অদক্ষ মানুষের প্রতীক হিসেবে। কিন্তু নতুন নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। এবার রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি গুহা থেকে পাওয়া ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো দাঁত জানাচ্ছে, নিয়ানডারথালরা শুধু বেঁচে থাকার লড়াইই করত না, তারা দাঁতের চিকিৎসাও জানত।

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আধুনিক মানুষের বহু হাজার বছর আগেই নিয়ানডারথালরা দাঁতের সংক্রমণ দূর করতে দাঁতে ছিদ্র করত। গবেষকদের মতে, এটি মানব ইতিহাসে সবচেয়ে পুরোনো দাঁতের চিকিৎসার প্রমাণগুলোর একটি।

আলতাই পর্বতের গুহায় মিলল প্রমাণ

রাশিয়ার আলতাই পর্বতমালার চাগিরস্কায়া গুহা থেকে ২০১৬ সালে একটি পুরোনো দাঁত উদ্ধার করা হয়। এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ানডারথালের দাঁত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দাঁতটি বহু বছর শক্ত ও খসখসে খাবার চিবানোর কারণে ক্ষয়ে গিয়েছিল।

গবেষকরা প্রথমে ভেবেছিলেন, দাঁতের মাঝখানের বড় গর্তটি স্বাভাবিক সংক্রমণের ফল। কিন্তু পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায়, গর্তের ভেতরে ঘূর্ণায়মান ধারালো যন্ত্রের তৈরি সূক্ষ্ম দাগ রয়েছে।

Siberian cave findings shed light on enigmatic extinct human species |  Reuters

সেখান থেকেই গবেষকদের সন্দেহ হয়, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁতের ভেতরের সংক্রমিত অংশ সরানোর চেষ্টা করেছিল।

পাথরের যন্ত্র দিয়েই করা হয়েছিল চিকিৎসা

গবেষণায় দেখা যায়, ওই গুহায় আগে জ্যাসপার নামের এক ধরনের শক্ত পাথরের ছোট ধারালো যন্ত্র পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকরা একই ধরনের যন্ত্র তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে দাঁতে ঘষে দেখেন।

তারা দেখতে পান, ঘূর্ণায়মানভাবে পাথরের যন্ত্র ব্যবহার করলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে দাঁতে একই ধরনের দাগ তৈরি করা সম্ভব। সেই দাগের সঙ্গে প্রাচীন দাঁতের দাগের মিলও পাওয়া যায়।

গবেষকদের মতে, এটিই প্রমাণ করে নিয়ানডারথালরা দাঁতের ভেতরের ক্ষত বা সংক্রমণ পরিষ্কার করার মতো জটিল কাজ করতে পারত।

চিকিৎসার পরও বেঁচে ছিল রোগী

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দাঁতের গর্তের চারপাশে পরবর্তী সময়ে খাবার চিবানোর ক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ চিকিৎসার পর ওই ব্যক্তি আরও দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতেন।

Between Denisovans and Neanderthals: Strashnaya Cave in the Altai Mountains  | Antiquity | Cambridge Core

দাঁতের পাশে আরও কিছু দাগ পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে নিয়ানডারথালরা দাঁতের ফাঁকে সরু কিছু ঢুকিয়ে মাড়ির অস্বস্তি কমানোর চেষ্টাও করত।

গবেষকদের মতে, এটি শুধু চিকিৎসা নয়, বরং ব্যথা সহ্য করে ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়ানোর মতো চিন্তাশক্তিরও প্রমাণ।

মানব ইতিহাস নিয়ে নতুন ভাবনা

এই আবিষ্কার নিয়ানডারথালদের নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে বড়ভাবে চ্যালেঞ্জ করছে। এতদিন মনে করা হতো, আধুনিক মানুষের মতো জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না। কিন্তু এই দাঁতের চিকিৎসার প্রমাণ বলছে, তারা কারণ–পরিণতি বুঝতে পারত এবং পরিকল্পনা করে কাজ করত।

গবেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখায় নিয়ানডারথালদের হাতের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ছিল এবং তারা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও বুঝত।

মানব বিবর্তন নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে প্রাচীন মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক আচরণ আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ছিল।