গলফ দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস লিখলেন ইংল্যান্ডের অ্যারন রাই। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার অ্যারোনিমিঙ্ক গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত পিজিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ১০৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তিনি। ১৯১৯ সালের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ গলফার জিতলেন মর্যাদাপূর্ণ ওয়ানামেকার ট্রফি।
টুর্নামেন্টের শুরুতে খুব বেশি আলোচনায় ছিলেন না রাই। অনেকেই তাকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় রাখেননি। কিন্তু শেষ দিনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবাইকে চমকে দেন তিনি। শেষ রাউন্ডে পাঁচ আন্ডার পার ৬৫ স্কোর করে মোট নয় আন্ডার নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন এই ইংলিশ তারকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জন রাহম ও অ্যালেক্স স্ম্যালিকে তিন শটে পেছনে ফেলেন তিনি।
শেষ মুহূর্তে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন

শেষ দিনের শুরুতে শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াইয়ে ছিলেন ২২ জন গলফার। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্লে-অফের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ব্যাক নাইন হোলে একের পর এক বার্ডি করে রাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। বিশেষ করে ১৭ নম্বর হোলে ৬৮ ফুট দূর থেকে করা বার্ডি পাট দর্শকদের বিস্মিত করে। সেই শটই কার্যত তার জয় নিশ্চিত করে দেয়।
রাই জানান, এত বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার কল্পনারও বাইরে ছিল। ইতিহাস গড়ার অনুভূতিকে তিনি “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেন।
চাপ সামলেই চ্যাম্পিয়ন
টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ম্যাটি শ্মিড ও জন রাহমসহ একাধিক গলফার তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছিলেন। তবে রাই চাপের মুখেও শান্ত ছিলেন। ১৩ নম্বর হোলে বাঙ্কার থেকে দুর্দান্ত শট নিয়ে বার্ডি করেন তিনি। এরপর ১৬ নম্বর হোলে আরেকটি বার্ডি করে ট্রফির খুব কাছে পৌঁছে যান।

এদিকে জন রাহম শেষ দিকে গতি ধরে রাখতে পারেননি। ব্যাক নাইন হোলে মাত্র একটি বার্ডি করতে সক্ষম হন তিনি। অন্যদিকে অ্যালেক্স স্ম্যালি দারুণ লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে।
ইউরোপের ধারাবাহিক সাফল্য
রাইয়ের এই জয় ইউরোপীয় গলফের জন্যও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মৌসুমের প্রথম মেজর মাস্টার্স জিতেছিলেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ররি ম্যাকইলরয়। ফলে চলতি মৌসুমের প্রথম দুই মেজরই গেল ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের হাতে।
এছাড়া শেষ দিনে ৬৩ স্কোর করে নজর কেড়েছেন কার্ট কিতায়ামা। এটি মেজর চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ফাইনাল রাউন্ড স্কোরের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















