মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার বেড়ে ১১১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এক পর্যায়ে এটি ১১২ ডলার স্পর্শ করে, যা মে মাসের শুরু থেকে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে নতুন শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত সপ্তাহেও তেলের দাম সাত শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা ও জব্দের ঘটনা বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা অনেকটাই কমে গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার উৎস খুঁজে বের করার কাজ চলছে। দেশটি এটিকে “সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও জানিয়েছে।
একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরাকের আকাশসীমা দিক থেকে আসা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপের আশঙ্কা
অর্থনীতি ও জ্বালানি বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও চাপে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
রাশিয়ার তেল নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা
তেলের দামে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সিদ্ধান্ত। ওয়াশিংটন রাশিয়ার সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেল কেনার ক্ষেত্রে যে ছাড় দিয়েছিল, সেটির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। এর ফলে ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য রাশিয়ার তেল আমদানি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকট, অন্যদিকে রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে নতুন সীমাবদ্ধতা—এই দুইয়ের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















