০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ধাক্কা, ধস নামল ভারতের শেয়ারবাজারে পাকিস্তানের গ্যাস ঋণ নিয়ে আইএমএফের কড়া প্রশ্ন, বাড়তে পারে জ্বালানির দাম ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়, ড্রোন হামলায় কাঁপছে আমিরাত-সৌদি অঞ্চল পাকিস্তানের কড়া বার্তা, ভারতকে যুদ্ধ নয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান ভারতে উপাসনালয় বিতর্কে নতুন মোড়, সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ভণ্ড বাবার আশ্রমে পূজার পর জোড়া খুন, মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য অনুরাগ দোভালের ১০ কোটি টাকার বাইক সাম্রাজ্যে ধস, আর্থিক সংকটে বিক্রি করলেন স্বপ্নের সংগ্রহ ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে প্রশ্নে কড়া জবাব, নিজেদের ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্র’ বলল নয়াদিল্লি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলা, উদ্বেগে ভারত ভারতে অলিভ গার্ডেন আনছে বড় বিনিয়োগ, তিন বছরে দ্বিগুণ হবে রেস্তোরাঁ ব্যবসা

চীনের অর্থনীতিতে ধাক্কা, কমেছে উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয়

চীনের অর্থনীতিতে আবারও ধীরগতির সংকেত দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে দেশটির শিল্প উৎপাদন ও খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে চীনের শিল্প উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। মার্চে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা আরও বেশি প্রবৃদ্ধির আশা করলেও বাস্তব চিত্র ছিল হতাশাজনক। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে ধীর শিল্প প্রবৃদ্ধি।

ভোক্তা ব্যয়ে বড় ধাক্কা

Chinese factory, consumer activity slow amid economy struggles

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারেও দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এপ্রিল মাসে খুচরা বিক্রি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। মার্চে এই হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই চীনা ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

বিশেষ করে গাড়ির বাজারে বড় পতন হয়েছে। এপ্রিল মাসে দেশীয় গাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। টানা সাত মাস ধরে এই খাতে পতন অব্যাহত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বলতা কাটাতে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় চীনের শিল্প খাতে চাপ বাড়িয়েছে। যদিও রপ্তানি কিছুটা ভালো অবস্থায় রয়েছে, তবুও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলোর মুনাফা কমছে।

চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিখাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা পুরো অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।

বিনিয়োগেও নেতিবাচক ধারা

Losing steam: China's economic slowdown deepens in key August indicators |  World News - Business Standard

দেশটির স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগও কমেছে। বছরের প্রথম চার মাসে এই খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন হয়েছে। মার্চ পর্যন্ত যেখানে কিছুটা প্রবৃদ্ধি ছিল, এপ্রিলের পরিসংখ্যানে সেখানে বড় পতন দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণ খাতের দুর্বলতা এবং দক্ষিণাঞ্চলের ভারী বৃষ্টিপাত বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

ট্রাম্প সফরে সম্পর্কের বরফ গললেও অগ্রগতি সীমিত

এপ্রিলের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হয়েছে। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতি দেখা যায়নি।

China's economy under pressure as consumer slump deepens

দুই দেশ কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নতুন প্রণোদনার সম্ভাবনা কম

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এক মাসের দুর্বল তথ্যের ভিত্তিতে বেইজিং এখনই বড় কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করবে না। বরং দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় অর্থনৈতিক সহায়তা আসার ইঙ্গিত এখনো নেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ধাক্কা, ধস নামল ভারতের শেয়ারবাজারে

চীনের অর্থনীতিতে ধাক্কা, কমেছে উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয়

১২:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চীনের অর্থনীতিতে আবারও ধীরগতির সংকেত দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে দেশটির শিল্প উৎপাদন ও খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে চীনের শিল্প উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। মার্চে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা আরও বেশি প্রবৃদ্ধির আশা করলেও বাস্তব চিত্র ছিল হতাশাজনক। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে ধীর শিল্প প্রবৃদ্ধি।

ভোক্তা ব্যয়ে বড় ধাক্কা

Chinese factory, consumer activity slow amid economy struggles

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারেও দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এপ্রিল মাসে খুচরা বিক্রি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। মার্চে এই হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই চীনা ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

বিশেষ করে গাড়ির বাজারে বড় পতন হয়েছে। এপ্রিল মাসে দেশীয় গাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। টানা সাত মাস ধরে এই খাতে পতন অব্যাহত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বলতা কাটাতে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় চীনের শিল্প খাতে চাপ বাড়িয়েছে। যদিও রপ্তানি কিছুটা ভালো অবস্থায় রয়েছে, তবুও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলোর মুনাফা কমছে।

চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিখাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা পুরো অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।

বিনিয়োগেও নেতিবাচক ধারা

Losing steam: China's economic slowdown deepens in key August indicators |  World News - Business Standard

দেশটির স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগও কমেছে। বছরের প্রথম চার মাসে এই খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন হয়েছে। মার্চ পর্যন্ত যেখানে কিছুটা প্রবৃদ্ধি ছিল, এপ্রিলের পরিসংখ্যানে সেখানে বড় পতন দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণ খাতের দুর্বলতা এবং দক্ষিণাঞ্চলের ভারী বৃষ্টিপাত বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

ট্রাম্প সফরে সম্পর্কের বরফ গললেও অগ্রগতি সীমিত

এপ্রিলের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হয়েছে। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতি দেখা যায়নি।

China's economy under pressure as consumer slump deepens

দুই দেশ কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নতুন প্রণোদনার সম্ভাবনা কম

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এক মাসের দুর্বল তথ্যের ভিত্তিতে বেইজিং এখনই বড় কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করবে না। বরং দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় অর্থনৈতিক সহায়তা আসার ইঙ্গিত এখনো নেই।