পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা পরিচালিত সাবেক কার্যালয়ের জায়গায় নতুন প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স গড়ার পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।
গত জানুয়ারিতে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা সংস্থাটির ভবনের ভেতরের বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে গত বছর ওই এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটি। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তখন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
নতুন পরিকল্পনায় কী থাকছে
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেরুজালেম পৌর কর্তৃপক্ষের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন কমপ্লেক্সে একটি সামরিক জাদুঘর, সেনা নিয়োগ কার্যালয় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অফিস স্থাপন করা হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই সিদ্ধান্তকে “সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জায়নবাদের প্রতীক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এই জায়গায় নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।
বিতর্কের কেন্দ্রে জাতিসংঘ সংস্থা
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছে। গত বছরের শুরুতে সংস্থাটিকে সব কার্যক্রম বন্ধ করে স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। এরপর থেকেই ভবনটি আর ব্যবহার করা হচ্ছিল না।
ইসরায়েলের অভিযোগ, সংস্থাটির কিছু কর্মী হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নিয়েছিল। ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় বলে দাবি দেশটির। এর পরই গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

অন্যদিকে সংস্থাটি জানিয়েছে, কিছু কর্মীকে বরখাস্ত করা হলেও সব অভিযোগের পক্ষে ইসরায়েল পর্যাপ্ত প্রমাণ দেয়নি। সংস্থাটির সাবেক প্রধান ফিলিপ লাজারিনি অভিযোগ করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বড় আকারের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে আন্তর্জাতিক অবস্থান
পূর্ব জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জর্ডানের কাছ থেকে এলাকাটি দখল করে ইসরায়েল। তবে পুরো জেরুজালেমকেই নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে দেশটি।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা এই সংস্থা গাজা, পশ্চিম তীরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয় সহায়তা দিয়ে থাকে। চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















