যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সোমবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার দাবি করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ২০ জন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন শত শত।
যুদ্ধবিরতি বাড়লেও উত্তেজনা কমেনি
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনার পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার মধ্যরাত থেকে নতুন এই সময়সীমা কার্যকর হয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একাধিক গ্রাম ও স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩০টির বেশি অবস্থানে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বালবেকে হামলায় নিহত জিহাদ নেতা
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের কাছে এক হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন তার মেয়েও। নিহত কমান্ডারের নাম ওয়ায়েল মাহমুদ আবদ আল-হালিম।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি এলাকায় একটি আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপরও হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
দক্ষিণ লেবাননে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশকে নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের উপস্থিতি ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব এলাকায় বহু গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিতর্ক

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা আর কতজন সাধারণ মানুষ, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, হিজবুল্লাহর অনেক নিহত সদস্য সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের ১৮ সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করা এক ঠিকাদার ও উত্তর ইসরায়েলের দুই বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে লেবানন সীমান্তে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হলেও বাস্তবে দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















