ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ভাঙন এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে নতুন সংকট তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচ সামাল দিতে পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে চাপ, বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের অবরোধ ও উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুদ্ধের আগে তুলনায় যা ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
![]()
এর প্রভাব পড়েছে জাহাজ পরিবহন, কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্প উৎপাদনে। সার, অ্যালুমিনিয়াম, পলিথিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছে।
বিমান সংস্থাগুলোর বড় ধাক্কা
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো। জেট জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় শুধু এই খাতেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক বার্তা
বিশ্বের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে গৃহস্থালি পণ্য, ভোক্তা পণ্য ও শিল্পখাতের বিভিন্ন কোম্পানিও খরচ বাড়ার কথা বলছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ স্থগিত করেছে, আবার কেউ কর্মী ছাঁটাই বা উৎপাদন কমানোর পথে হাঁটছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় আর্থিক ধাক্কা দেখা যেতে পারে।
সাধারণ মানুষের ওপরও প্রভাব
জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা কমছে। অনেক দেশে মানুষ নতুন পণ্য কেনার বদলে পুরোনো পণ্য মেরামত করে ব্যবহার করার দিকে ঝুঁকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতিগুলো নতুন চাপে পড়বে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















