ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনার পরও অনেক অভিযাত্রী ও পর্বতারোহী তাদের পরিকল্পনা বদলাচ্ছেন না। বরং অনেকে বলছেন, সরকার সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তারা আগের মতোই পাহাড়ে উঠবেন। আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকুর মাউন্ট দুকোনো আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন ছিলেন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। ওই ঘটনার পর থেকেই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঝুঁকির মধ্যেও অভিযানের আগ্রহ
সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞ পর্বতারোহী অ্যান্ডিন কাদির জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে আরোহণ করেছেন এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও পরিকল্পনা বাতিল করছেন না। তার মতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তাহলে তিনি অভিযানে অংশ নেবেন।
তিনি সম্প্রতি বালির সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট বাতুর এলাকায় আয়োজিত একটি ট্রেইল দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। আয়োজকেরা জানিয়েছে, তারা নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে।
আরেক অভিযাত্রী এ রহমানও জানিয়েছেন, বছরের শেষ দিকে মাউন্ট রিনজানিতে ওঠার পরিকল্পনা এখনও বহাল আছে। তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের পর শুধুমাত্র সতর্কবার্তার কারণে অভিযান বাতিল করতে চান না।
দুর্ঘটনার পর বাড়ছে উদ্বেগ
মাউন্ট দুকোনোর দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার অনেক পর্যটক নতুন করে ঝুঁকি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। কয়েকজন ভ্রমণকারী জানিয়েছেন, তারা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন হলে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের মতে, আগ্নেয়গিরি ঘিরে নিরাপত্তা নীতিমালা আরও কঠোর হতে পারে। কিছু এলাকায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও জারি থাকতে পারে। বর্তমানে মাউন্ট দুকোনো এলাকায় সব ধরনের আরোহণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
পর্যটক কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় গাইড, বাহক ও পরিবহনকর্মীরা। মাউন্ট দুকোনোকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট ব্যবসাগুলো প্রায় পুরোপুরি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
স্থানীয় গাইড অ্যালেক্স জাঙ্গু জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরি বন্ধ থাকায় এখন অনেকেই আবার নারিকেল ও জায়ফল সংগ্রহের কাজে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নির্মাণশ্রমিক হিসেবেও কাজ খুঁজছেন। তার মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপার্জনের পথ খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
নতুন পথে ট্যুর ব্যবসা
ইন্দোনেশিয়ার আরেক ট্যুর অপারেটর আগুস রোহমাদ জানিয়েছেন, ২০১০ সালে মাউন্ট মেরাপির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের সময়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি মূল আগ্নেয়গিরির বদলে আশপাশের নিরাপদ পাহাড়ে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। এতে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও পর্যটনের ধরনে বড় পরিবর্তন আসে।
তার মতে, অনেক পর্যটক এখনও ঝুঁকি নিয়েই সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি যেতে চান। তবে এখন নিরাপত্তা ও বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, প্রকৃতির আচরণ পুরোপুরি পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অক্সিজেন বহনের মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
তাদের মতে, আগ্নেয়গিরি পর্যটনের জনপ্রিয়তা হয়তো কমবে না, তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















