০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য মিশরে ভোররাতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল কায়রোসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধ জেতার চেয়েও কঠিন: ইরান সংঘাতের শেষ কোথায়? ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি

পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন তদন্তে দুই কমিশন, চালু হচ্ছে সপ্তম বেতন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত ১৫ বছরে সংঘটিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, দুটি কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতি। একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার।

দুই কমিশনের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা কে জয়ারামন।

অন্যদিকে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস কর্মকর্তা দময়ন্তী সেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকে দুটি কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে এবং এক মাসের মধ্যেই সুপারিশ পাঠানো শুরু করবে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নজর

সরকারের দাবি, নারী নিরাপত্তা কমিশন বিশেষভাবে নজর দেবে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত ঝুলে থাকা অভিযোগপত্র, তদন্তের অগ্রগতি এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়নের ওপর।

এদিকে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের মুখপাত্র জয় প্রকাশ মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, নারী নির্যাতনের হার বেশি থাকা অন্যান্য রাজ্যে কেন একই ধরনের কমিশন গঠন করা হচ্ছে না।

সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা

রাজ্য সরকার একই দিনে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে। সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যেই এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। আগামী ১ জুন থেকে এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের নতুন আবেদন লাগবে না

সরকার জানিয়েছে, আগের সরকারের সময় চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় থাকা মহিলাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নতুন প্রকল্প আসলে আগের প্রকল্পেরই সম্প্রসারিত সংস্করণ। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

ভোটার তালিকা নিয়ে সমীক্ষা

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৯১ লাখ নাম নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এছাড়া কলকাতা হাইকোর্টের আগের এক রায়ের ভিত্তিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে দেওয়া আর্থিক সহায়তা প্রকল্পগুলোও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ?

পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন তদন্তে দুই কমিশন, চালু হচ্ছে সপ্তম বেতন কমিশন

০৮:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত ১৫ বছরে সংঘটিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, দুটি কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতি। একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার।

দুই কমিশনের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা কে জয়ারামন।

অন্যদিকে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস কর্মকর্তা দময়ন্তী সেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকে দুটি কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে এবং এক মাসের মধ্যেই সুপারিশ পাঠানো শুরু করবে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নজর

সরকারের দাবি, নারী নিরাপত্তা কমিশন বিশেষভাবে নজর দেবে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত ঝুলে থাকা অভিযোগপত্র, তদন্তের অগ্রগতি এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়নের ওপর।

এদিকে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের মুখপাত্র জয় প্রকাশ মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, নারী নির্যাতনের হার বেশি থাকা অন্যান্য রাজ্যে কেন একই ধরনের কমিশন গঠন করা হচ্ছে না।

সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা

রাজ্য সরকার একই দিনে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে। সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যেই এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। আগামী ১ জুন থেকে এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের নতুন আবেদন লাগবে না

সরকার জানিয়েছে, আগের সরকারের সময় চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় থাকা মহিলাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নতুন প্রকল্প আসলে আগের প্রকল্পেরই সম্প্রসারিত সংস্করণ। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

ভোটার তালিকা নিয়ে সমীক্ষা

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৯১ লাখ নাম নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এছাড়া কলকাতা হাইকোর্টের আগের এক রায়ের ভিত্তিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে দেওয়া আর্থিক সহায়তা প্রকল্পগুলোও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।