পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন রাজ্যে ইতোমধ্যেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূলের ভেতরে চাপ ও অস্থিরতার আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানান জাহাঙ্গীর খান। তিনি বলেন, ফলতার মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “সোনার ফলতা” গড়ার স্বপ্ন থেকেই তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
‘সোনার ফলতা’ গড়ার কথা

জাহাঙ্গীর খান দাবি করেন, ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি এলাকার সন্তান এবং মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধিকেই অগ্রাধিকার দিতে চান।
তাঁর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। কারণ ভোটের আগে থেকেই ফলতা কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা, অভিযোগ এবং সংঘর্ষের খবর সামনে আসছিল।
তৃণমূলের দূরত্ব বজায়
জাহাঙ্গীর খানের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূল কংগ্রেস দ্রুত জানিয়ে দেয়, এটি পুরোপুরি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফলতা এলাকায় তাদের কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং অনেকে ভয়ভীতির মুখে পড়েছেন।
দলটির অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে ফলতা এলাকায় শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
তৃণমূল আরও অভিযোগ তোলে যে প্রশাসনিক চাপ ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কেন হচ্ছে পুনর্নির্বাচন
গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্রেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভোটের দিন ব্যাপক বিক্ষোভ, উত্তেজনা এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করেন, তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এসব ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন পুরো কেন্দ্রের সব ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। কমিশনের মতে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
আগামী ২১ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে।
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৩টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে আরও চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















