দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা পুরোনো কিন্ডল ডিভাইসের প্রতি অনেক পাঠকের আবেগ এখন বড় ধাক্কার মুখে। পুরোনো সংস্করণের কিন্ডল ডিভাইসের জন্য সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বহু ব্যবহারকারী। অনেকেই বলছেন, শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে এটি তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।
২০১২ সাল বা তার আগের সংস্করণের কিন্ডল ডিভাইসের জন্য নতুন বই ডাউনলোড এবং সফটওয়্যার হালনাগাদ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পুরোনো ডিভাইস ব্যবহারকারীরা নতুন বই সংগ্রহ করতে পারবেন না। এই পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের ডিভাইসে বিপুল সংখ্যক বই জমা করে রাখছেন।
আবেগের জায়গায় আঘাত
অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পুরোনো কিন্ডলের সরল নকশা, দীর্ঘ ব্যাটারি স্থায়িত্ব এবং ফিজিক্যাল বোতামের সুবিধা নতুন মডেলে নেই। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর একই ডিভাইস ব্যবহার করেছেন, তাদের কাছে এটি শুধুই প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং ব্যক্তিগত স্মৃতির অংশ।
একজন ব্যবহারকারী জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে একই কিন্ডল ব্যবহার করছেন এবং প্রতিদিন ঘুমানোর আগে সেটিতেই বই পড়েন। নতুন ডিভাইস নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তিনি কখনও অনুভব করেননি।
বই জমিয়ে রাখছেন পাঠকরা
সহায়তা বন্ধের খবর জানার পর অনেকেই দ্রুত নিজেদের ডিভাইসে ই-বুক ডাউনলোড করে রাখছেন। কেউ কেউ শত শত বই সংরক্ষণ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও ডিভাইসটি ব্যবহার করা যায়। আবার অনেকে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও করছেন, যেন কোনো পরিবর্তনের কারণে ডিভাইস অকার্যকর না হয়ে পড়ে।
পুরোনো কিন্ডলের ব্যবহারকারীরা বলছেন, নতুন সংস্করণে ফিজিক্যাল পেজ টার্ন বোতাম না থাকায় পড়ার অভিজ্ঞতা আগের মতো আর নেই। বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়ায় গ্লাভস পরে বই পড়ার ক্ষেত্রে পুরোনো মডেল বেশি সুবিধাজনক।
প্রযুক্তি বদলের বাস্তবতা
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিরাপত্তা, ব্যয় এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে পুরোনো ডিভাইসের সহায়তা বন্ধ করে দেয়। তবে অনেক ব্যবহারকারীর অভিযোগ, এখনও সচল থাকা ডিভাইসগুলোকে অকার্যকর করে ফেলার এই প্রবণতা ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ডিভাইসকে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নতুন মডেল কেনার জন্য ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প পথ খুঁজছেন অনেকে
পুরোনো কিন্ডল সচল রাখতে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে নানা উপায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেউ ডিভাইসের সফটওয়্যার সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুন ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কম্পিউটার থেকে ইউএসবি সংযোগের মাধ্যমে বই যোগ করছেন।
অনেকে উন্মুক্ত সফটওয়্যারভিত্তিক ই-বুক ব্যবস্থাপনাও ব্যবহার শুরু করেছেন, যাতে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
বাজারে এখনও শক্ত অবস্থান
ই-বুক পাঠের বাজারে এখনও এই ডিভাইসের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ডিজিটাল বই পড়ার অভ্যাস জনপ্রিয় করে তুলতে এই প্রযুক্তির বড় ভূমিকা ছিল। দ্রুত বই ডাউনলোড, বিশাল সংগ্রহ এবং সহজ ব্যবহার একসময় পাঠকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিল।
তবে পুরোনো ব্যবহারকারীদের একাংশ মনে করছেন, প্রযুক্তি যতই এগোক, টেকসই ও ব্যবহারবান্ধব পুরোনো ডিভাইসগুলোর বিকল্প এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















