প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন “সিঙ্গেল-গেট” নীতি ঘোষণা করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে এই নীতির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে দেশের তেল ও গ্যাস খাতকে। সরকারের ভাষ্য, মূলধননির্ভর এই শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বানতেনের বিএসডিতে অনুষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়ান পেট্রোলিয়াম অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬-এ জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ঘোষিত কেন্দ্রীয় রপ্তানি ব্যবস্থাপনা নীতি উজান তেল ও গ্যাস খাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তিনি শিল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, “চিন্তার কিছু নেই, সবকিছু আগের মতোই চলবে।”
বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বড় কারণ
মন্ত্রী আরও জানান, তেল ও গ্যাস খাতের বড় অংশের বিনিয়োগ বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে রপ্তানি আয়ের শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা এই খাতে আরোপ করা হচ্ছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে এই খাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ধরে রাখার শর্ত আরোপ হতে পারে, তবে শতভাগ নয়।
সম্প্রতি সরকার রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা বা ডিএইচই দেশীয় ব্যাংকে সংরক্ষণের নীতিতে পরিবর্তন আনে। এর আওতায় খনিজ, তেল-গ্যাস ও অ-তেল খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকেও রাখা যাবে অর্থ
সমন্বয়কারী অর্থনৈতিকমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হারতার্তো জানান, নতুন নীতির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে রপ্তানিকারকেরা তাদের বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বাইরে স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকেও রাখতে পারবেন।
সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাতের রপ্তানিকারকেরা যদি অন্তত তিন মাসের জন্য ৩০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখেন, তাহলে বাকি অংশ অন্য ব্যাংকে রাখার সুযোগ পাবেন। একইভাবে অ-তেল খাতের রপ্তানিকারকদের ১২ মাসের জন্য বিশেষ হিসাবে শতভাগ অর্থ রাখার শর্ত পূরণ করতে হবে।

এছাড়া যেসব রপ্তানিকারক ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে ফিরিয়ে এনেছেন, তাদের জন্য বাধ্যতামূলক রূপান্তরের হার ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
দুর্নীতি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু পণ্যের রপ্তানি ভবিষ্যতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এর লক্ষ্য হলো প্রতারণা ও অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা।
তিনি এই পদক্ষেপকে প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানির শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বছরে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব হতে পারে।
২০২৭ থেকে পূর্ণ বাস্তবায়ন
বিনিয়োগ ও ডাউনস্ট্রিমমন্ত্রী রোসান রোসলানি জানিয়েছেন, “দানান্তারা সুম্বেরদায়া ইন্দোনেশিয়া” নামে নতুন সংস্থাটি জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করবে। পরে বছরের শেষ প্রান্তিকে মূল্যায়নের পর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সংস্থাটি কেবল রপ্তানি নথিপত্র ব্যবস্থাপনার কাজ করবে বলে জানিয়েছে সরকার।
ইন্দোনেশিয়ার তেল-গ্যাস রপ্তানি নীতি
ইন্দোনেশিয়ার নতুন রপ্তানি নীতিতে তেল-গ্যাস খাতকে ছাড় দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
Sarakhon Report 



















