০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয় সৌদি আরবের উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু প্রযুক্তি, নাকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার পরীক্ষা? জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা প্রধানের পদ ছাড়ছেন তুলসি গ্যাবার্ড, হোয়াইট হাউসে জল্পনা তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তুলসি গ্যাবার্ড। স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারকে সময় দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

শুক্রবার প্রকাশিত এক চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সম্মানের মনে করেন। কিন্তু স্বামীর কঠিন অসুস্থতার সময়ে পাশে থাকা এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জুনের শেষ দিন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসে ভেতরের টানাপোড়েন

গ্যাবার্ডের বিদায়ের পেছনে শুধু পারিবারিক কারণ নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কয়েক মাস ধরেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের খবর সামনে আসে।

Trump's intel chief Tulsi Gabbard is 'off-message' and out of favor,  sources tell CNN | CNN Politics

এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় গ্যাবার্ডকে অনেক সময় পাশে রাখা হচ্ছিল না। ভেনেজুয়েলা, ইরান ও কিউবা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিতর্কিত কিন্তু আলোচিত দায়িত্বকাল

গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তুলসি গ্যাবার্ডের বড় ধরনের গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে তিনি রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।

তার দায়িত্বকালে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করে। তিনি সাবেক কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেন এবং বিভিন্ন পুরোনো নথি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এছাড়া নির্বাচন নিরাপত্তা ও কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। এসব পদক্ষেপকে কেউ স্বচ্ছতার উদ্যোগ বললেও সমালোচকেরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন।

Trump's intelligence chief Tulsi Gabbard quits

নতুন নেতৃত্ব কে?

গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী দায়িত্বে আসছেন অ্যারন লুকাস। তিনি আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে গ্যাবার্ডের কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, পরিবারের এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ওয়াশিংটনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব কোন পথে এগোবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন নতুন প্রধান হিসেবে কাকে বেছে নেয়। গ্যাবার্ডের বিদায়ের মাধ্যমে প্রশাসনের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয়

ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা প্রধানের পদ ছাড়ছেন তুলসি গ্যাবার্ড, হোয়াইট হাউসে জল্পনা তুঙ্গে

১২:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তুলসি গ্যাবার্ড। স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারকে সময় দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

শুক্রবার প্রকাশিত এক চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সম্মানের মনে করেন। কিন্তু স্বামীর কঠিন অসুস্থতার সময়ে পাশে থাকা এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জুনের শেষ দিন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসে ভেতরের টানাপোড়েন

গ্যাবার্ডের বিদায়ের পেছনে শুধু পারিবারিক কারণ নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কয়েক মাস ধরেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের খবর সামনে আসে।

Trump's intel chief Tulsi Gabbard is 'off-message' and out of favor,  sources tell CNN | CNN Politics

এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় গ্যাবার্ডকে অনেক সময় পাশে রাখা হচ্ছিল না। ভেনেজুয়েলা, ইরান ও কিউবা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিতর্কিত কিন্তু আলোচিত দায়িত্বকাল

গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তুলসি গ্যাবার্ডের বড় ধরনের গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে তিনি রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।

তার দায়িত্বকালে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করে। তিনি সাবেক কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেন এবং বিভিন্ন পুরোনো নথি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এছাড়া নির্বাচন নিরাপত্তা ও কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। এসব পদক্ষেপকে কেউ স্বচ্ছতার উদ্যোগ বললেও সমালোচকেরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন।

Trump's intelligence chief Tulsi Gabbard quits

নতুন নেতৃত্ব কে?

গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী দায়িত্বে আসছেন অ্যারন লুকাস। তিনি আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে গ্যাবার্ডের কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, পরিবারের এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ওয়াশিংটনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব কোন পথে এগোবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন নতুন প্রধান হিসেবে কাকে বেছে নেয়। গ্যাবার্ডের বিদায়ের মাধ্যমে প্রশাসনের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।