যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তুলসি গ্যাবার্ড। স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারকে সময় দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
শুক্রবার প্রকাশিত এক চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সম্মানের মনে করেন। কিন্তু স্বামীর কঠিন অসুস্থতার সময়ে পাশে থাকা এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জুনের শেষ দিন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউসে ভেতরের টানাপোড়েন
গ্যাবার্ডের বিদায়ের পেছনে শুধু পারিবারিক কারণ নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও ভূমিকা রেখেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কয়েক মাস ধরেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের খবর সামনে আসে।

এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় গ্যাবার্ডকে অনেক সময় পাশে রাখা হচ্ছিল না। ভেনেজুয়েলা, ইরান ও কিউবা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
বিতর্কিত কিন্তু আলোচিত দায়িত্বকাল
গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তুলসি গ্যাবার্ডের বড় ধরনের গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে তিনি রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।
তার দায়িত্বকালে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করে। তিনি সাবেক কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেন এবং বিভিন্ন পুরোনো নথি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এছাড়া নির্বাচন নিরাপত্তা ও কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। এসব পদক্ষেপকে কেউ স্বচ্ছতার উদ্যোগ বললেও সমালোচকেরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন।
নতুন নেতৃত্ব কে?
গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী দায়িত্বে আসছেন অ্যারন লুকাস। তিনি আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে গ্যাবার্ডের কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, পরিবারের এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
ওয়াশিংটনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব কোন পথে এগোবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন নতুন প্রধান হিসেবে কাকে বেছে নেয়। গ্যাবার্ডের বিদায়ের মাধ্যমে প্রশাসনের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















