পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। শুক্রবার পেশোয়ার, লাহোর, ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলেও করাচিতে কঠোর নিরাপত্তার কারণে বড় সমাবেশ করতে পারেনি দলটি।
রাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি ও নিরাপত্তা সংকটকে সামনে এনে আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই নেতারা। দলটির দাবি, ইমরান খানকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।
পেশোয়ারে ইমরান খানের মুক্তির দাবি
পেশোয়ারে সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই নেত্রী শানদানা গুলজার খান বলেন, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইমরান খানের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার উপজাতীয় এলাকায় নিরীহ মানুষের রক্তপাত বন্ধ করা।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকার প্রদেশটির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদের ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় আইনজীবী মুআজ্জম বাট জানান, জেলে থাকা ইমরান খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশোয়ার হাইকোর্টে সাংবিধানিক আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্বে থাকার বিষয়েও আদালতে আবেদন করার কথা জানান তিনি।
ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা
রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও লেহতার রোড এলাকায় ছোট পরিসরে বিক্ষোভ করে পিটিআই। সেখানে কয়েক ডজন নেতা-কর্মী অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, ইমরান খানের মুক্তি, জ্বালানির দাম কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।
পিটিআই নেতারা সতর্ক করে বলেন, সরকার এসব দাবি উপেক্ষা করলে ঈদের পর আরও বড় আন্দোলনে যাবে দলটি।
লাহোরে গ্রেপ্তার, উত্তেজনা

লাহোর প্রেস ক্লাবের সামনে পিটিআই সমর্থিত বিরোধী জোটের বিক্ষোভে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা পাঞ্জাবে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন।
তাদের অভিযোগ, কর্মসূচির আগের রাতে রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিক্ষোভস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মুক্তির দাবি জানায় পিটিআই নেতৃত্ব।
করাচিতে ব্যর্থ বিক্ষোভ পরিকল্পনা
করাচিতে বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তা সফল হয়নি। করাচি প্রেস ক্লাব ঘিরে থাকা রেড জোন এলাকায় প্রবেশপথগুলো কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর ফলে দলীয় কর্মীরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারেননি। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শহরের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
পরে পিটিআই করাচির মুখপাত্র স্বীকার করেন, কঠোর নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে কর্মসূচি সফল করা যায়নি।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের মুক্তিকে কেন্দ্র করে পিটিআই আবারও রাজপথে সক্রিয় হওয়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের পর বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















